নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ অগাস্ট ২০২৬ | ১২:৩৯ পিএম

ফাইল ছবি
অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধার জন্য শিগগিরই অনলাইনে আবেদন বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় গ্রিন কার্ড, নাগরিকত্ব ও আশ্রয়ের আবেদনও থাকবে। আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং পরিচালন ব্যয় কমানোই এই পরিবর্তনের প্রধান লক্ষ্য।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ধরনের অভিবাসন সুবিধার আবেদন অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ অন্তত ১৮০ দিন ধরে থাকলে সেটি অনলাইনেই জমা দিতে হবে। অর্থাৎ ওই আবেদনের ক্ষেত্রে আর কাগজে জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) সোমবার ফেডারেল রেজিস্টারে নতুন নিয়মটি প্রকাশ করেছে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও কিছু আবেদন শুধু অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ চালুর প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোনো আবেদন পুরোপুরি অনলাইনে নেওয়ার আগে অন্তত ৬০ দিনের নোটিশ দিতে হবে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে অভিবাসনসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আবেদনে পরিবর্তন আসবে।
এর মধ্যে রয়েছে গ্রিন কার্ডের নতুন আবেদন ও নবায়ন, পরিবারের মাধ্যমে করা অভিবাসনের আবেদন, মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন, আশ্রয়ের আবেদন, কাজের অনুমতিপত্রের আবেদন এবং সাময়িক সুরক্ষিত মর্যাদার আবেদন।
আবেদনকারীদের সাধারণত ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আবেদন করতে হবে। তারা সরাসরি অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন। আবার আগে পূরণ করা আবেদনপত্রের পিডিএফ কপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও অনলাইনে আপলোড করা যাবে।
ইউএসসিআইএস বলেছে, কাগজের আবেদন থেকে দ্রুত অনলাইন ব্যবস্থায় যাওয়ার লক্ষ্যেই এই নিয়ম করা হয়েছে। এর ফলে ডাকযোগে পাঠানো কাগজপত্র গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য আলাদা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমবে। ইউএসসিআইএসের মতে, অনলাইনে আবেদন নেওয়া হলে পুরো প্রক্রিয়া দ্রুত করা সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে আবেদনপত্রে ভুলও কমবে। অনলাইনে জমা দেওয়া তথ্য সহজে খুঁজে পাওয়া ও বিশ্লেষণ করা যাবে। এতে জালিয়াতি শনাক্ত করা এবং আবেদনকারীদের নিরাপত্তা যাচাই আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।
তবে যেসব আবেদনকারী অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন না, তাদের জন্য ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ জন্য তাদের আলাদা একটি আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। ইউএসসিআইএস প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে, ওই ব্যক্তিকে কাগজে আবেদন করার অনুমতি দেওয়া হবে কি না। তবে এ ধরনের ছাড়ের আবেদন করতে ২৫ মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে।
অভিবাসন আবেদনব্যবস্থায় কাগজের ব্যবহার কমানোর অন্যতম কারণ এর বিপুল খরচ। ২০২৫ অর্থবছরে ইউএসসিআইএস ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি অভিবাসন সুবিধার আবেদন প্রক্রিয়া করেছে। একই সময়ে ডাকযোগে আসা কাগজপত্র গ্রহণের কেন্দ্রগুলো প্রায় ৪৫ কোটি ৩০ লাখ পৃষ্ঠা কাগজের আবেদন সামলেছে।
এই কাগজের আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা পরিচালনায় ইউএসসিআইএসের প্রায় ৩৯ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। শুধু ডাক খরচেই ব্যয় হয়েছে এক কোটি ডলারের বেশি।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর বলেছে, অনলাইনে আবেদন বাধ্যতামূলক হলে কাগজপত্র হাতে নেওয়া, তথ্য কম্পিউটারে তোলা, ডাকযোগে পাঠানো, সংরক্ষণ এবং স্ক্যান করার খরচ কমবে। এতে শুধু খরচই কমবে না, আবেদন যাচাই এবং সিদ্ধান্ত দেওয়ার কাজও দ্রুত হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
নতুন ব্যবস্থার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে কাগজের আবেদন থেকে পুরোপুরি ডিজিটাল ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাবে। তবে অনলাইনে আবেদন করতে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ছাড়ের সুযোগ রাখা হচ্ছে।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত