সর্বশেষ
গাজীপুরে আবাসিক গ্যাসে হোটেল-রেস্তোরাঁয় রান্না, জরিমানা ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, সিগারেট লুট: চট্টগ্রামের মামলার প্রধান আসামি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রেফতার ইউক্রেনে রাশিয়ার রাতভর হামলা, নিহত ৩২; ‘ঘৃণ্য হামলা’ বললেন জেলেনস্কি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের ৮.৫ ফুটের নগ্ন সোনালি ভাস্কর্য যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের অনুমতিতে ৭০ হাজার ডলার ফি! ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ‘আমি কোথায়? আপনি কে?’—দুই দফা মৃত্যুদণ্ডের পর জ্ঞান ফিরতেই ক্রিস্টার প্রশ্ন হিজবুল্লাহকে ২০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিল ইরান, দাবি রয়টার্সের মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলা, দম্পতির ৩ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে দ্বিতীয় স্থান হারাল বাংলাদেশ

‘আমি কোথায়? আপনি কে?’—দুই দফা মৃত্যুদণ্ডের পর জ্ঞান ফিরতেই ক্রিস্টার প্রশ্ন

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৫২ এএম

‘আমি কোথায়? আপনি কে?’—দুই দফা মৃত্যুদণ্ডের পর জ্ঞান ফিরতেই ক্রিস্টার প্রশ্ন

সংগৃহীত ছবি

দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। কয়েক দিন অচেতন থাকার পর হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক প্রথমেই জানতে চান, ‘আমি কোথায়?’ এরপর তাঁর প্রশ্ন, ‘আপনি কে?’

আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পাইভির ভাষ্য অনুযায়ী, জ্ঞান ফেরার পর ক্রিস্টা ছিলেন রাগান্বিত ও বিভ্রান্ত। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টার ঘটনাও তাঁর খুব বেশি মনে নেই।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। তাঁকে দুবার পেন্টোবারবিটাল প্রয়োগ করা হলেও মৃত্যু না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক দিন অচেতন অবস্থায় ছিলেন তিনি।

স্পাইভি জানান, কয়েক দিন ধরে তাঁদের ধারণা ছিল ক্রিস্টা মস্তিষ্কের দিক থেকে মৃত। যেকোনো সময় তাঁকে কৃত্রিম জীবনধারণ ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছিল।

তবে মঙ্গলবার সবাইকে বিস্মিত করে কথা বলতে শুরু করেন ক্রিস্টা। যদিও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টার বিষয়ে তাঁর স্মৃতি সীমিত।

আইনজীবীর ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ক্রিস্টা নিজেই তাঁর হাতে শিরা খুঁজে বের করতে কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করেন। ইনজেকশন দেওয়ার সময়ও তিনি শান্ত ছিলেন।

পরে হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর গলায় নল এবং চারপাশে অপরিচিত মানুষ দেখে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন তিনি। বর্তমানে তাঁর দুই হাত ফুলে গেছে। এক হাতে রক্ত জমাট বেঁধেছে, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং খাবার গিলতেও পারছেন না।

আইনজীবীরা বলছেন, প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন।

এদিকে বুধবার আদালত ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইনজেকশন দেওয়ার নল, সিরিঞ্জ, ওষুধের প্যাকেট, নির্দেশনাপত্র ও লেবেলসহ ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী।

এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে, চলাকালীন ও পরে ক্রিস্টা পাইকের মানসিক অবস্থার নথিও সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাইকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে তাঁর হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগেও নানা বাধা তৈরি হয়েছে। তাঁরা ক্রিস্টাকে ফোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতাল থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে তাঁদের জানানোর আবেদন করেছেন।

১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যা করেন ক্রিস্টা পাইক। ওই হত্যার দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

টাডারিল শিপের বয়স তখন ১৭ বছর হওয়ায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন।

ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য অঙ্গরাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে কেন এই ব্যর্থতা ঘটল, তার ব্যাখ্যাও চেয়েছেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com