নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬ | ৫:৩৭ পিএম

বিদেশ ফেরত অভিবাসী কর্মী ও বাংলাদেশ মাইগ্রেন্টস ফাউন্ডেশন (BMF)-এর চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জয় নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপারের নিকট তাঁর পরিবারের ৩৮ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা পুকুর ও সুপারি বাগান জবরদখলের অপচেষ্টা, মূল্যবান গাছ কর্তন, মাছ লুট এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবিতে একটি লিখিত আবেদন দাখিল করেছেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের ভদ্রসেনা গ্রামে তাঁদের পরিবারের ১৯৮৮ সালে কবলাকৃত এবং দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে শান্তিপূর্ণ ভোগদখলে থাকা একটি পুকুর ও সুপারি বাগান দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের জবরদখলের অপচেষ্টার শিকার হয়ে আসছে।
গত ০৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে আনুমানিক ৩০-৩৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল পুকুরের চারপাশে থাকা ১৫-২০টি মূল্যবান সুপারি গাছ কেটে ফেলে, পুকুরের মাছ লুট করে এবং সবুজ নেটের বেড়া দিয়ে পুকুরটি জবরদখলের চেষ্টা চালায়। পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়, ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
জয়নাল আবেদীন জয় জানান, চার ভাই কর্মসূত্রে ঢাকায় বসবাস করায় গ্রামে রয়েছেন শুধুমাত্র তাঁর ৮৮ বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবা, বৃদ্ধ মা এবং বড় ভাবী। তাঁদের অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে সংঘবদ্ধ চক্রটি বারবার সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনার পর তাঁর বাবা মোঃ তাছির উদ্দিন মান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে শুনানির উদ্যোগ গ্রহণ করে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তদের হুমকি-ধামকি এখনো অব্যাহত রয়েছে, ফলে পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।
আবেদনে তিনি পুলিশ সুপারের কাছে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত, জবরদখল, গাছ কর্তন, মাছ লুট ও হুমকির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা, পরিবারের জানমাল ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ভবিষ্যতে জবরদখল প্রতিরোধে কার্যকর পুলিশি নজরদারি এবং ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ মূল্যায়ন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
জয়নাল আবেদীন জয় বলেন-“আমি একজন বিদেশ ফেরত অভিবাসী কর্মী। গত ১৯ বছর ধরে অভিবাসী কর্মীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছি। আজ আমার নিজের পরিবারই জবরদখল, হামলা ও হুমকির শিকার। আমি বিশ্বাস করি, প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে আমার পরিবারের নিরাপত্তা এবং আমাদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলকৃত সম্পত্তির অধিকার রক্ষা করা সম্ভব হবে।”
আবেদনের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), সহকারী পুলিশ সুপার (মান্দা সার্কেল), অফিসার ইনচার্জ (মান্দা থানা), উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), মান্দা এবং বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের Expatriate Help Cell-এ প্রেরণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মাইগ্রেন্টস ফাউন্ডেশন (BMF) মনে করে, একজন বিদেশ ফেরত অভিবাসী কর্মীর পরিবারের সম্পত্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল একটি ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং আইনের শাসন, সম্পত্তির অধিকার এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত