সর্বশেষ
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ডেইসারোথ, হেগেমান ও নাগেল গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় অবহেলা নয়, কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি বিমানমন্ত্রীর রিয়াদে বৈঠকে বসছেন প্রতিরক্ষা জোটের নেতারা, আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী প্রার্থী কমার আশঙ্কা সিইসির ইয়েমেনে ঘরছাড়া ২ লাখ, বুনো শস্য-লতাপাতা কুড়িয়ে ক্ষুধা মেটাচ্ছে শিশুরা আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ, ক্যাম্পে যোগ দিলেন মেসি একসঙ্গে ১২ বোমারু বিমান সরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র, ইরানকে ঘিরে নতুন কী বার্তা? পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক হওয়ার গুঞ্জন, যা বললেন শোয়েব আখতার প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগোতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগোতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:২৪ এএম

প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগোতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের অর্থ শুধু একটি ঘর নয়। নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, গণপরিবহন ও সড়কব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ—সবকিছুই টেকসই আবাসনের সঙ্গে জড়িত।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন। তারপরও বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে। শুধু বাসস্থান নিশ্চিত করাই নয়, সেটিকে নিরাপদ ও টেকসই করাও এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শহর, বন্দর ও নগরে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি বাড়ছে। রাজধানী ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনবহুল। দেশের অন্যান্য শহরেও প্রায় একই পরিস্থিতি। শহরাঞ্চলে ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি মানুষের বসবাস রয়েছে।

এমন বাস্তবতায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শহরগুলোতে সবার জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে হবে। বিষয়টি বলা যতটা সহজ, বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিচ্ছে। সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও নিরাপদ বাসস্থান এবং মৌলিক সেবা-পরিষেবা নিশ্চিত করা নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলাকে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থাও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান সুবিধা দেওয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জন সহজ হবে।

শহরাঞ্চলে জনসংখ্যার চাপ কমাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমানো সম্ভব।

রাজধানী ও কয়েকটি বড় শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়, বরং বিকেন্দ্রীভূত ও ভারসাম্যপূর্ণ নগর এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন।

এ লক্ষ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বাসযোগ্য আবাসন তৈরিতে পরিবেশ রক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশকে বিবেচনায় রেখে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মুখোমুখি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও নগর এলাকার সংকট, বিশেষ করে সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

নগর ও শহরাঞ্চলের আবাসন সংকট মোকাবিলা সরকারের একার পক্ষে কিছুটা কঠিন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আবাসন খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ এ সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে গৃহীত সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’ দেশের নাগরিকদের সামনে একটি বাস্তবতায় পরিণত হবে, ইনশাআল্লাহ।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com