সফিউর রহমান সফিক
প্রকাশ : ১১ অগাস্ট ২০২৬ | ৬:২৮ পিএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (PIO) মোঃ ফজলুল করিম ও তাঁর অফিস সহায়ক মোবারক হোসেন ভূঁইয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই জুন ক্লোজিং এর নামে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করাসহ ব্যাপক ঘুষ-দুর্নীতি ও নানান অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে । এদিকে অনুসন্ধানে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে সরকারি বরাদ্দ লুটপাট এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে পিআই ও তার সহযোগী বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা জুন ক্লোজিং এর নামে তুলে নেওয়ার একাধিক নথি পাওয়া গেছে । এই সব নথিপত্র ঘেঁটে দেখলে আপনার চোখ কপালে উঠবে।
এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে গজারিয়া উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে লাগামহীন ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ অফিসের এই দুই কর্মকর্তা- কর্মচারীর । আর কতদিন চলবে তাদের এহন কর্মকাণ্ড। গজারিয়া উপজেলা পিআইও মোঃ ফজলুল করিম এবং তার সহযোগী মোবারক হোসেন ভূঁইয়ার ঘুষ – বাণিজ্যে নানান অনিয়মের লাগাম এখনই টেনে ধরে ত্রাণ ও দুর্যোগ অফিসের দুর্নীতির নানার অনিয়মের বিষয়ে নজর দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তরে জনপ্রতিনিধিও ঠিকাদাররা বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করতে গেলে তাদের গুনতে হয় ১০% থেকে ৩০% টাকা। গজারিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়টিকে ঘিরে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ বহুদিন থেকে।
গজারিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও তার অফিস সহায়ক এখন সকলের কাছে মিস্টার ৩০% আবার কারো কাছে মিস্টার ১৫% পারসেন্ট হিসেবে পরিচিত । অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো থেকে প্রকাশ্যেই ঘুষ নিচ্ছেন পিআইও ও তার অফিস সহায়ক মোবারক হোসেন ভূঁইয়া । সূত্রে আরো জানা গেছে পিআইও’র হয়ে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি রফাদফা করেন আউটসোর্সিং এ নিয়োগপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক মোবারক হোসেন ভূঁইয়া। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আছেন তিনি একই অফিসে, মোবারক গজারিয়া ত্রাণ ও দুর্যোগ অফিসে ঘুষ দুর্নীতি ও নানান অনিয়ম করে আঙ্গুল ফুলে হয়েছেন কলাগাছ। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মোবারক হোসেন ভূঁইয়া বর্তমানে বিপুল টাকাও সম্পদের মালিক। এর সাথে নানান অনিয়ম দুর্নীতি অপকর্ম করে কোটি কোটি টাকা ও বিপুল সম্পদের মালিক গজারিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফজলুল করিম। ফ্লাট ,বাড়ি, জমি ও বিভিন্ন ব্যাংককে নামে বেনামে কোটি কোটি টাকা ব্যাংক ব্যালেন্স রয়েছে তাদের।
উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ও অফিস সহায়ক মোবারক হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে টিআর (টেস্ট রিলিফ), কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) এবং কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) ও এলজি এস পি প্রকল্প থেকে ভ্যাট ও ট্যাক্সের নামে বাধ্যতা মূলকভাবে ১০% থেকে ৩০% পর্যন্ত টাকা বা ঘুষ নিচ্ছেন উক্ত কর্মকর্তা ও তাঁর সহযোগীরা তাদের এবং তাদের উপরস্থ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে।
এলজিএসপি (LGSP) প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতিতে পার্সেন্টেজ আদায় করা হচ্ছে। ঘুষের টাকা না দিলে প্রকল্পের ফাইল আটকে রাখা বা বরাদ্দ বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়। কাজ শেষ না করেই টাকা উত্তোলন অসংখ্য নথিপত্র তদন্তে করলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল । স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য প্রকল্পের কাজ মাঠপর্যায়ে সম্পূর্ণ বা আংশিক আবার কোনো কোনো প্রকল্পের কাজ না করেই শতভাগ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে ২০২৫-২০২৬ অথ বছরে। প্রকল্প কমিটির সভাপতিদের ভয় দেখিয়ে বা তাঁদের সাথে আঁতাত করে মাস্টাররোলে ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে এই অর্থ পকেটস্থ করা হচ্ছে । ‘জুন ক্লোজিং’ বা অর্থবছর শেষের লুটপাট প্রতিবছর জুন ক্লোজিংয়ের (অর্থবছর সমাপ্তি) সময় এই চক্রটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও জুন ক্লোজিং এর নামে সরকারি অর্থ লুটপাট লুটপাটের মহোৎসব চলেছে গজারিয়া ত্রাণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে । কাজ শেষ করার সময়সীমা পার হয়ে গেলেও তড়িঘড়ি করে ভুয়া রিপোর্ট (কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন) তৈরি করে প্রকল্পের অর্থ লুটপাট করা হয়েছে বলে জানা যায়।
জুন ক্লোজিংয়ের নামে রাতারাতি ভুয়া বিল পাস করিয়ে সরকারের লাখ লাখ টাকা সরাসরি আত্মসাৎ করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও অভিযোগ রয়েছে । ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত না করে জুন ক্লোজিং এর নামে ২৯টি প্রকল্পের টাকা অগ্রিম তুলে নেওয়ার কাগজপত্র পাওয়া গেছে । উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফজলুল করিমের সহযোগী মোবারক হোসেন ভূঁইয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন । একাধিক সূত্রে আরো জানা গেছে মূলত মোবারক হোসেন ভূঁইয়াই মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন দালাল ও ইউপি সদস্যদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং ঘুষের টাকা কালেকশন বা হাতবদল করার মূল মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন।
অন্যদিকে আরো জানা গেছে গজারিয়া উপজেলায় বিগত কয়েক বছরে সোলার প্লান্ট এর নামে কয়েকটা প্রকল্পের মাধ্যমে গজারিয়া উপজেলার ( ৮ ) আটটি ইউনিয়নে হাজারেরও বেশি সোলার লাইট বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন করা হয়। এই সোলার প্ল্যান্টের লাইট গুলো কিছুদিন না যেতেই বিভিন্ন ত্রুটি দেখা দেয়। সেই সোলার প্লান্টের ব্যাটারি ও লাইট গুলো মেরামতের নাম করে অফিস সহায়ক মোবারক হোসেন ভূঁইয়া সোলার প্ল্যাট গুলো খুলে তার জিম্মায় নিয়ে আসেন মেরাবাতের নাম করে । এরপর আর ওইগুলো যেখান থেকে খুলে নিয়ে আসা হয় সেখানে আর স্থাপন করা হয়নি। জানা যায় মেরামতের নামে খুলে আনা সোলার লাইট ব্যাটারি ও সোলার প্যানেল অফিস সহায়ক মোবারক হোসেন ভূঁইয়া এইগুলো বিক্রি করে দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সম্প্রীতি তার বাসা থেকে প্রায় ১২ টি সোলার প্যানেল উদ্ধার করে যেগুলো মোবারক হোসেন ভূঁইয়া তার বাসায় স্থাপন করে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করছিল। এদিকে গজারিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফজলুল করিম ও তার অফিস সহায়ক মোবারক হোসেন ভুঁইয়ার নানান অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে জানতে তাদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও অফিস সহায়ক মোবারক হোসেন ভূঁইয়া এই বিষয়ে কোন বক্তব্য প্রদান না করে অন্য প্রসঙ্গ টেনে কথা বলে ফোন রেখে দেন । গজারিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও তার সহযোগী অফিস সহায়ক সরকারি নীতিমালার কোন তোয়াক্কা না করে এই কর্মকর্তা ও তাঁর সহযোগীর এমন লাগামহীন দুর্নীতিতে গজারিয়া উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ সরকারের উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই চক্রের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল ।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত