সফিউর রহমান সফিক
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৫৯ পিএম

শিক্ষা কর্মকর্তার দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্ত ধামাচাপা
————————————————প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) সুশাসন ও স্বচ্ছতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এক বিশাল দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ এবং পাবনা সদরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা শবনম। বিভাগীয় নানান অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, শিক্ষকদের বদলি বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিত্তবানদের ব্ল্যাকমেইলিং—সবখানেই জড়িয়ে রয়েছে এই সিন্ডিকেটের নাম। শত শত অভিযোগ জমা পড়লেও অদৃশ্য এক খুঁটির জোরে এখনো বহাল তবিয়তে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন তারা।
এদিকে এই সিন্ডিকেটের আদ্যোপান্ত ও ক্ষমতার উৎস অনুসন্ধান বিভিন্ন জানা গেছে, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ শিক্ষা অফিসে কর্মরত থাকাবস্থায় নিজের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে গড়ে তোলেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। আর এই সিন্ডিকেটের মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন তার লঘনিষ্ঠ বান্ধবী ও পাবনা সদর উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা শবনম। ঢাকা ও পাবনা—দুই অঞ্চলের শিক্ষা প্রশাসনের একটি বড় অংশকে জিম্মি করে রেখেছেন এই দুই কর্মকর্তা। সাধারণ শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, নিয়মবহির্ভূত পদায়ন এবং অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।বদলি বাণিজ্য ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ফাঁদে ফেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাঙ্ক্ষিত স্থানে বদলি কিংবা বিভাগীয় প্রমোশনের নামে এই সিন্ডিকেট লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড কেবল শিক্ষা অফিসেই সীমাবদ্ধ নয়। অভিযোগ রয়েছে, এই দুজন মিলে সুকৌশলে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলিং করতেন। পরবর্তীতে সম্মানহানি ও মামলার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো।
ভুক্তভোগীদের অনেকেই লোকলজ্জার ভয়ে মুখ না খুললেও, সম্প্রতি তাদের এই বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে । শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ তাদের ব্ল্যাকমেলিং অনৈতিক কর্মকান্ডে তার ঘনিষ্ঠ অনিন্দ্য সুন্দরী বান্ধবীর শিক্ষা কর্মকর্তা সাহিদা শবনমকে ব্যবহার করে লোকজনকে রূপ ও যৌবনের মোহে ফেলে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা এমন অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে বহুদিনের থেকে । শুধু তাই নয় এর সাথে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে নানান অপকর্মসহ বিভিন্ন নেক্কার জনক ঘটনার জন্ম দিয়েই চলছে এই সিন্ডিকেট ।
শিক্ষা কর্মকর্তার ঘরে আলাদিনের চেরাগ
গাড়ি, বাড়ি ও ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট এক দশক আগেও সাধারণ সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে জীবনযাপন করা নূর মোহাম্মদ ও শাহিদা শবনমের সম্পদ এখন রূপকথার গল্পকেও হার মানায়।
নুর মোহাম্মদ এর সিরাজগঞ্জে পদায়নের ১ মাসের মাথায় অবৈধ ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দোকান বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতির কালো টাকায় তারা গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়। অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানী ঢাকা এবং নিজ এলাকায় বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি, একাধিক অভিজাত ফ্ল্যাট এবং নামীদামি ব্র্যান্ডের গাড়ির মালিক বনে গেছেন এই শিক্ষা কর্মকর্তা। ব্যাংকে বেনামে জমা রয়েছে কোটি কোটি টাকা। একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয় দিয়ে কীভাবে এত অল্প সময়ে এই পরিমাণ বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়া সম্ভব—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ ও খোদ শিক্ষা অধিদপ্তরের সৎ কর্মকর্তারা। শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ ও সাহিদা শবনমের বিরুদ্ধে উঠা নানান অনিয়ম অপকর্মের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানতে তাদের মোবাইল ফোনে বারবার ফোন দেওয়ার পরেও তারা ফোন রিসিভ করেনি ।আরো জানা গেছে উক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় তবুও নির্বিকার প্রশাসন। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ডজন ডজন লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোনো অদৃশ্য শক্তির ইশারায় প্রতিবারই পার পেয়ে যাচ্ছেন তারা। তদন্ত থমকে যাওয়া কিংবা ধামাচাপা পড়ার কারণে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল মনে করছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মতো একটি পবিত্র খাতকে কলঙ্কমুক্ত করতে হলে অতি দ্রুত এই ‘নূর মোহাম্মদ-শাহিদা’ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা দরকার। একই সাথে দুদকের মাধ্যমে তাদের অবৈধ সম্পদের হিসাব বিবরণী তলব করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।




© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত