সর্বশেষ
আলাদিনের চেরাগ বিএডিসির উপ-সহকারী পরিচালকের ঘরে ! নুন আনতে পান্তা ফুরানো সেই দেলোয়ার এখন শতকোটি টাকার মালিক! ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের মুরাদনগর হাসপাতালে মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর বিজয়নগরে কিশোরীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে সংঘর্ষ, আহত ১০; ৫ বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ গাজীপুরে বাবাকে হত্যার পর আত্মগোপনে, প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে ছেলে আটক সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলার দাবি, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপির মা মরিয়ম বেগমের ইন্তেকাল সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শনিবার এইচএসসির ফল প্রকাশ, অনলাইনে ও এসএমএসে জানবেন যেভাবে

আলাদিনের চেরাগ বিএডিসির উপ-সহকারী পরিচালকের ঘরে ! নুন আনতে পান্তা ফুরানো সেই দেলোয়ার এখন শতকোটি টাকার মালিক!

সফিউর রহমান সফিক

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ৯:০৪ পিএম

আলাদিনের চেরাগ বিএডিসির উপ-সহকারী পরিচালকের ঘরে ! নুন আনতে পান্তা ফুরানো সেই দেলোয়ার এখন শতকোটি টাকার মালিক!

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন-১

কোটি কোটি টাকা খরচ করে তিনি এবার ডিপ্লোমা কৃষিবিদ সমিতির নির্বাচনে মহাসচিব প্রার্থী

একসময় যার জীবন কাটত চরম  অর্থনৈতিক সংকটে, দিন এনে দিন খাওয়ার মতো অবস্থা আজ তিনি শতকোটি টাকার মালিক। তিনি আর কেউ নন—বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর কুমিল্লা অঞ্চলের দাউদকান্দি সার গুদামের উপসহকারী পরিচালক মোঃ দেলোয়ার হোসেন। সরকারি এক সাধারণ চাকুরে হয়েও ঘুষ, দুর্নীতি, সার কেলেঙ্কারি এবং নানা অনিয়মের মাধ্যমে তিনি কামিয়েছেন দুবাই কিংবা রূপকথার জাদুর চেরাগের মতো বিপুল সম্পদ। রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। এখানেই শেষ নয় ডিপ্লোমা কৃষিবিদ সমিতির নির্বাচন ২০২৬ এ বিপুল অর্থ খরচ করে মহাসচিব পদে প্রার্থী হয়েছেন এই দুর্নীতিবাজ দেলোয়ার হোসেন। অবৈধ কালো টাকার প্রভাবে ডিপ্লোমা কৃষিবিদ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিবের পদ বাগিয়ে নিতে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন বলে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিশ্বস্ত সূত্রে আরো জানা গেছে এরই মধ্যে অফিস থেকে লম্বা ছুটি নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পাড় হওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় আলিশান পার্টি দিচ্ছেন লাখ টাকা খরচ করে। ঐ পার্টিতে সব কিছুরই ব্যবস্থা করছেন দেলোয়ার হোসেন এমন অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

আলাদিনের চেরাগের সন্ধান ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে, মুন্সিগঞ্জ ২ বাড়ি ও ১৯ ফ্ল্যাট !

অনুসন্ধানে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেনের আয়ের প্রধান উৎস বিএডিসির সার বিতরণ ও গুদাম কেন্দ্রিক দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট। এই অবৈধ আয়ের মাধ্যমে তিনি রাজধানী ঢাকা, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া এবং নারায়ণগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা চিটাগাং রোড, সাইনবোর্ড এবং সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় গড়ে তুলেছেন বিপুল স্থাবর সম্পত্তি। এখন পর্যন্ত তার মালিকানাধীন ও তার স্ত্রী এবং নিকট আত্মীয়স্বজনের নামে ২টি বিলাসবহুল বাড়ি এবং ১৯টি সুসজ্জিত ফ্ল্যাটের সন্ধান মিলেছে। একজন উপ-সহকারী পরিচালকের বেতনের সাথে যা কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

গ্রামে ও শহরে প্রায় ৩০ বিঘা জমি

শুধু বহুতল ভবন , গাড়ি, বাড়ি, দোকান বা ফ্ল্যাটই নয়, মোঃ দেলোয়ার হোসেনের নামে ও বেনামে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, নারায়ণগঞ্জ, সোনারগাঁও , গাজীপুর এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ৩০ বিঘা মূলবান জমির সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের বিষয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রচার করা হবে পাঠকদের সামনে। সূত্রে আরো জানা গেছে কৃষকদের ন্যায্য মূল্যের সার কালোবাজারে বিক্রি এবং ডিলারদের জিম্মি করে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ উপার্জিত টাকা তিনি বিনিয়োগ করেছেন এই বিপুল ভূসম্পত্তিতে।

ব্যাংক ব্যালেন্স, এফডিআর ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগ

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেন শুধু জমি বা বাড়ি, ফ্লাট কিনেই ক্ষান্ত হননি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার নামে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স এবং এফডিআর (স্থায়ী আমানত) রয়েছে। এছাড়া আইনি জটিলতা এড়াতে বিপুল পরিমাণ অর্থ তিনি বেনামে বিভিন্ন লাভজনক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন, যেখান থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা মুনাফা আসছে।

দীর্ঘদিনের সার কেলেঙ্কারি ও সিন্ডিকেট

বিএডিসির কুমিল্লা অঞ্চলের দাউদকান্দি সার গুদামে দীর্ঘদিন ধরে জেঁকে বসেছেন এই কর্মকর্তা। কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সার ডিলারদের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে চড়া মূল্যে বিক্রি, নিম্নমানের সার সরবরাহ এবং ভুয়া- বিল ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এই কর্মকর্তার কারণে বছরের পর বছর ধরে প্রকৃত কৃষকেরা ন্যায্য মূল্যে সার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জে কয়েক শত বিঘা জমিতে আলু চাষ প্রতিবছর

বিএডিসির উপ- সহকারী পরিচালক কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি অঞ্চলের গুদাম (সার) দেলোয়ার হোসেন অবৈধ পন্থায় উপার্জিত অর্থে প্রতিবছর মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও মুন্সিগঞ্জ এলাকায় কয়েক শত বিঘা জমিতে আলু চাষ করছেন তার নিকট আত্মীয় ও বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে এবং তার এই জমিতে সারের কোন সংকট হচ্ছে না তার বদৌলতে!

আলিশান একাধিক গাড়ি
বিএডিসির এই গুনধর কর্মকর্তা ও তার পরিবারের ব্যবহারের জন্য রয়েছেন একাধিক আলিশান দামি মডেলের গাড়ি। যে গাড়ির মডেল দেখলে আপনার চোখ কপালে উঠবে। একজন সাধারণ কৃষি কর্মকর্তা হয়ে তার জীবন যাত্রার মান দেখলে মনে হবে দুবাই কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের ধন কুবের তার কাছে নগণ্য।

উদ্বেগ ও তদন্তের দাবি

এক সময়ের সাধারণ এই চাকুরিজীবীর শূন্য থেকে শতকোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার এই ঘটনা এখন বিএডিসির ভেতরে ও বাইরে সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, দেশের কৃষি ও কৃষকের অর্থ আত্মসাৎকারী এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল এবং তদন্তের মাধ্যমে তার সকল অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকাবাসী বিভিন্ন মহল ।
এদিকে বিএডিসির উপ-সহকারী পরিচালক (সার)গুদাম দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে উঠা বিভিন্ন অনিয়ম এবং তার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেওয়ার পর তিনি এ ব্যাপারে পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন। পরবর্তীতে তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিক বার মোবাইল ফোনে ফোন তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com