সোমবার৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ২২শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সোমবার৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ২২শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

এবার ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ-হাসনাত

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬ | ৩:৪৭ পূর্বাহ্ণ

এবার ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ-হাসনাত

আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। একই সঙ্গে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। প্রশাসক মোস্তাক মিয়া কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংঠনিক সম্পাদকের পদেও আছেন।

এদিকে জুলাই আন্দোলনে সামনের সাড়ির দুই নেতার বিরুদ্ধে জেলা পরিষদ প্রশাসকের এমন বক্তব্যের ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্য নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়েছে। তবে এ নিয়ে শনিবার রাতে আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহ ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

উভয়ই বলেছেন, মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে এসব টাকা বিভিন্ন উপজেলার ন্যায় দুই উপজেলায় (মুরাদনগর ও দেবিদ্বার) বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়। এসব টাকা জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব তহবিলের নয়।

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে মোস্তাক মিয়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘আমার জেলা পরিষদ থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ আমাদের নিজস্ব রাজস্বের টাকা ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। আরেকজন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি নিয়ে গেছেন ১০ কোটি টাকা। এটা হলো সমন্বয়ের অবস্থা। তারা চেয়েছিলেন যে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী একটা সমন্বয়ের রাজনীতি, কিন্তু তাদের মধ্যে সেটা ছিল না।’ এ বক্তব্য ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া তার নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে বলেন, ওনাকে (প্রশাসক) কে বসিয়েছে এই পদে। কোন অর্থ এডিপি আর কোনটি রাজস্ব এটা জানতে হবে। আমি মন্ত্রণালয় থেকে সব উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছি। কুমিল্লা জেলা পরিষদের মাধ্যমে মুরাদনগর ও দেবিদ্বারেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব টাকা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিধি মোতাবেক ব্যয় করা হয়েছে। যার নথি জেলা পরিষদে আছে।

অপর দিকে হাসনাত আবদুল্লাহ তার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, এই বরাদ্দ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যেটা জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। দেবিদ্বার ১০ কোটি টাকা নয়, ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। যেটা এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের রাজস্বের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নাই। হাসনাত বলেন, প্রশাসক রাজস্ব খাত আর বিশেষ বরাদ্দ সম্পর্ক জ্ঞান থাকলে এই কথা বলতেন না। আর উনি এমন ভাবে বলেছেন মনে হচ্ছে টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবিদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কুমিল্লার প্রশাসক বিএনপির একটি দলীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে বললেন, হাসনাত-আসিফ জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব খাত থেকে ২৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। এর মধ্যে আমি নাকি ১০ কোটি টাকা নিয়েছি। বক্তব্যটি শুনলে মনে হবে, টাকাটা আমরা নিজেরা পকেটস্থ করেছি। কিন্তু তাঁর বক্তব্যে অন্তত দুটি অসত্য তথ্য রয়েছে।

প্রথমত, এই বরাদ্দ জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে দেওয়া হয়নি। অন্যান্য উপজেলার মতো দেবিদ্বারেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। দেবিদ্বারের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি টাকা। জেলা পরিষদের রাজস্ব খাতের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততাই নেই। সুতরাং এটিকে রাজস্ব খাতের অর্থ বলে দাবি করা স্পষ্ট মিথ্যাচার।

দ্বিতীয়ত, তিনি বলেছেন টাকা আমরা নিয়েছি। অথচ এই অর্থ মোট ৪২টি প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে। ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সঙ্গে এই অর্থের কোনো সম্পর্কই নেই। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। (খাতভিত্তিক ব্যয়ের বিবরণ নিচে সংযুক্ত করা হলো।)

বিষয়টি নিয়ে তাকে ফোন করে জানতে চাইলে প্রশাসক জানান, অর্থটি উন্নয়ন কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হয়তো সাংবাদিক তার বক্তব্য পুরোপুরি প্রকাশ করেননি। (রেকর্ড সংযুক্ত)

রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপি বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিলেন। আর এ দেশে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করা খুবই সহজ।

জেলা পরিষদ থেকে উপজেলার জন্য বরাদ্দ দেওয়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। প্রতি বছরই বাজেটের আওতায় এ ধরনের বরাদ্দ দেওয়া হয়। দেবিদ্বার উপজেলার জন্য দেওয়া বরাদ্দও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। সেই ব্যয়ের প্রতিটি টাকার হিসাব সরকারি নথিতে সংরক্ষিত রয়েছে’।

তবে রাতে জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক মিয়া তার আগের দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে বলেন, নিজস্ব রাজস্ব তহবিল আর এডিপির বিশেষ বরাদ্দ সবই সরকারি টাকা। দুই উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দে নেওয়া সব প্রকল্পগুলি তদন্ত করা হবে। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
Default Advertisement

আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার

সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com