আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬ | ১০:২৪ এএম

ছবি : সংগৃহীত
কানাডার মন্ট্রিয়লে বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।নিহতদের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তা, একজন বেসামরিক নাগরিক এবং হামলাকারী নিজেও রয়েছেন। সোমবারের (২২ জুন) এ ঘটনায় পুরো শহরে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি শহরের একটি আংশিক ইহুদি-অধ্যুষিত এলাকায় ঘটে, যেখানে কোশের বাজার ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। তবে পুলিশ এখনো হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি এবং এটি ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ (হেট ক্রাইম)’ বা সন্ত্রাসী হামলা ছিল কি না, তাও নিশ্চিত করেনি।
ফরাসি ভাষার সরকারি সংবাদমাধ্যম রেডিও কানাডা জানিয়েছে, হামলাকারীর সঙ্গে তথাকথিত ‘ইনসেল’ মতাদর্শের সম্পর্ক থাকতে পারে। ‘ইনসেল’ শব্দের অর্থ ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে অবিবাহিত’। এই মতাদর্শে বিশ্বাসী কিছু পুরুষ নিজেদের নারী সঙ্গী না পাওয়ার হতাশা থেকে চরমপন্থায় জড়িয়ে পড়ে। ২০১৮ সালে টরন্টোতে ১০ জনকে হত্যা করা ভয়াবহ গাড়িচাপা হামলার পেছনেও এই মতাদর্শের প্রভাব ছিল।
মন্ট্রিয়ল পুলিশ প্রধান ফাদি দাগের ঘটনাটিকে ‘একটি ট্র্যাজেডি’ এবং ‘দুঃস্বপ্ন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কোট-দে-নেইজ এলাকায় সক্রিয় বন্দুক হামলার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে একটি ভবনের ভেতর থেকে দীর্ঘ অস্ত্র (লং গান) নিয়ে হামলাকারী গুলি চালাচ্ছিল। পরে পুলিশের সঙ্গে তার গোলাগুলি শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই আশপাশের দোকান ও রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হামলাকারীকে সামরিক পোশাকের মতো পোশাক পরা অবস্থায় দেখা গেছে এবং তাকে গুলি চালানোর জন্য প্রস্তুত মনে হচ্ছিল।
পুলিশ প্রধান নিশ্চিত করেছেন যে একজন পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন এবং একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে তার জীবন বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। হামলাকারীও পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
নিহত বেসামরিক নাগরিক সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি এ ধরনের সহিংসতায় ‘মর্মাহত’।





© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত