সর্বশেষ
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারের মান নিয়ে যা বলল এইচআরডব্লিউ ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র কারও আধিপত্য মেনে নেব না : নাহিদ ইসলাম চাইলে ১ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের সেতু-বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করতে পারি : ট্রাম্প বাংলাদেশে ইয়াবা আসক্তির মহামারি আমিরাতের ভিসা বাতিল নিয়ে উদ্বেগ, কারণ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ দূতাবাস জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী রোনালদো-মেসিকে ছাড়িয়েও গেছেন ইয়ামাল গ্যাস সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস মালয়েশিয়ার পরিচয় মিলল দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে নিহত ৬ বাংলাদেশির ২৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৯ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা

বিচারাধীন অবস্থায় আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে : জাহেদ উর রহমান

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬ | ৫:৪৮ পিএম

বিচারাধীন অবস্থায় আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে : জাহেদ উর রহমান

ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ‘অনেক কিছু’ করতে পারবে বলে সরকার মনে করে না। দলটির কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ আছে। দলটি নিষিদ্ধ হবে কি না, তা নির্ধারিত হবে আদালতে।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরসহ সরকারের নানা কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে তিন মহানগর ও তিন জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা–কর্মীদের অবস্থান, সরকারের ব্যবস্থা ও অবস্থান ইত্যাদি বিষয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন।

জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠে অবস্থানের একটা ‘সিম্বলিক’ কারণে আছে বলে মনে করেন তিনি।

কারণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘একটা নিষিদ্ধঘোষিত দল। নিষিদ্ধঘোষিত আসলে কথাটা ঠিক নয়। টেকনিক্যালি যদি বলি, নাম যদি এভাবে বলি আওয়ামী লীগ, দলটা নিষিদ্ধ হবে কি না, এই জিনিসটা একটু ক্লিয়ার করে রাখা দরকার। সেটার নির্ধারিত হবে আদালতে, আইসিটিতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল)। তারা (আওয়ামী লীগ) মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না, সেই বিচারের পর নির্ধারিত হবে। যেটা হয়েছে, ওই পর্যন্ত যেহেতু তারা বিচারাধীন থাকবে, সেই পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে সন্ত্রাস দমন আইন ২০০৯-এর অধীন। সুতারাং তাদের কর্মসূচি নিষিদ্ধ। এই দলটা এখন যেকোনো কর্মসূচি নিয়ে যদি মাঠে নামতে চায়, তারা একটা আইন ভঙ্গকারী কাজ করছে। সুতরাং সরকার সেখানে ব্যবস্থা নেবে, এটাই স্বাভাবিক। রাজনৈতিক দলগুলোর আসলে এখানে করার কিছু নেই। এটা তারা সিম্বলিক্যালি হয়তো মাঠে আছে, যেহেতু তারা (আওয়ামী লীগ) বলছে তারা অনেক কিছু করে ফেলবে।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘সেনাবাহিনী দেওয়া নিয়ে আমি যেটা বলব, এর মানে এই নয় যে অনেক কিছু তারা (আওয়ামী লীগ) করে ফেলতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না, আওয়ামী লীগের সেই রকম নৈতিক সাহসও আছে। মানে আপনার তো একটা অ্যাটলিস্ট একটা নৈতিক সাহস লাগে। আমরা একটা কথা বলি না, চোরের মায়ের বড় গলা। মানে আওয়ামী লীগের বড় গলা হতে, আমাদের সবার মেমোরি শেষ হয়ে যেতে হবে। সবার ডিমেনশিয়া হবে, তারপর কোনো দিন আওয়ামী লীগ আমাদের সামনে বড় গলা করে কথা বলতে পারবে। এর আগে আমার মনে হয় না। সুতরাং তাদের ওই নৈতিক সাহসও নেই। নৈতিক সাহস যদি না থাকে, কিছু লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর-বাটপারের আসলে খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না।’

জাহেদ উর রহমান বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে বন্দুকের সামনে মানুষ দাঁড়াতে পেরেছিল; কারণ, নৈতিক সাহসটা ছিল। তারা ধান্দাবাজ লোক ছিল না। সে দেশকে ভালোবেসেছে। এ দেশের ভালো করতে চেয়েছে। এত গুলি, এত মৃত্যু, এরপরও মানুষ পরের দিন আবার গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তো তাদের (আওয়ামী লীগ) দিয়ে আসলে তেমন কিছু হওয়ার কোনো কারণ নেই। তারপরও সরকারের থেকে যেটা করা উচিত, যে কয়টা জেলায় তার মনে হয়েছে যে ঝুঁকি কিছুটা হলেও বেশি—কারণ, কিছু ছোটখাটো নাশকতার সক্ষমতা হয়তো আছে, আর তাদের প্রচুর টাকা আছে, সেটা খরচ করে হঠাৎ করে কোনো নাশকতা করে কি না—সে জন্য যে জায়গায় ঝুঁকি বেশি মনে হয়েছে, সেখানে সেনাবাহিনী রাখা হয়েছে জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে। এর মানে এই নয় যে সরকার মনে করে, আওয়ামী লীগ অনেক কিছু করতে পারবে। তিনি সেটা মনে করেন না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন।

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com