সর্বশেষ
বিশ্বজুড়ে শরণার্থী ৪ কোটি ১০ লাখ চব্বিশ ও একাত্তর কোনোটিকেই বিএনপি ছোট করে দেখে না : মির্জা ফখরুল বিশ্ববাসীকে এক হওয়ার আহ্বান মেসির অবসর ঠেকাতে চীন থেকে নেত্রকোনায় এসে তরুণীকে বিয়ে যুবকের যুদ্ধ ভালোভাবেই চলছে, মার্কিন সেনারা ইরানে শক্তিশালী আঘাত হানছে : ট্রাম্প আমিরাতে হঠাৎ ভিসা বাতিলের আতঙ্ক, বিপাকে হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী শেখ হাসিনা আত্মসমর্পণ করতে চাইলে হয়তো আগেই গ্রেপ্তার করা হবে : আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নিতে চেয়েছে মিয়ানমার : আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর নিয়ে অধীর অপেক্ষায় ভারত সৌদি আরব বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার বানাচ্ছে

বিশ্বজুড়ে শরণার্থী ৪ কোটি ১০ লাখ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ অগাস্ট ২০২৬ | ১১:৫৯ এএম

বিশ্বজুড়ে শরণার্থী ৪ কোটি ১০ লাখ

ছবি : সংগৃহীত

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই ১৯৫১ সালে জাতিসংঘ শরণার্থী কনভেনশনে গৃহীত হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল সংঘাত ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার মানুষকে বিশ্বব্যাপী আইনি সুরক্ষা দেওয়া। তবে প্রতিষ্ঠার পৌনে এক শতাব্দী পর, রেকর্ড ৪ কোটি ১০ লাখেরও বেশি শরণার্থী এ বিশ্বে আইনটি কার্যকারিতা হারাতে বসেছে।

বর্তমানে সিরিয়া, সুদান, ভেনিজুয়েলা এবং ইউক্রেনের মতো দেশে চলমান সংকটের কারণে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়লেও পশ্চিমা ধনী দেশগুলো দিন দিন শরণার্থী সুরক্ষার বৈশ্বিক অঙ্গীকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

১৯৫১ সালের কনভেনশন এবং ১৯৬৭ সালের প্রটোকল অনুযায়ী শরণার্থীদের স্বদেশে জোরপূর্বক ফেরত না পাঠানোর নীতি ছিল আন্তর্জাতিক সুরক্ষার মূল ভিত্তি; কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলোতে অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক হাওয়া জোরদার হওয়ায় তারা নীতিগত অবস্থান থেকে সরে এসে বেশ শাস্তিমূলক পদক্ষেপে ঝুঁকছে।

যুক্তরাজ্য, ইতালি এবং যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের সরাসরি ফেরত পাঠানো কিংবা অন্য কোনো তৃতীয় দেশে স্থানান্তর করার নীতি গ্রহণ করেছে। অস্ট্রেলিয়া আগে থেকেই সমুদ্রে আশ্রয়প্রার্থীদের বাধা দিয়ে দ্বীপরাষ্ট্রে পাঠিয়ে আসছে। অন্যদিকে, কনভেনশনে প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ ডেনমার্ক সিরীয় শরণার্থীদের আইনি মর্যাদা বাতিল করে তাদের বিতাড়নের হুমকি দিয়েছে। গ্রিস ও পোল্যান্ডের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোতে সীমান্তরক্ষীরা শরণার্থীদের ওপর সহিংস আচরণ এবং পুশব্যাকের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট’ বাস্তবায়ন হলে কোনো ধরনের পর্যালোচনা ছাড়াই আবেদন খারিজ করে আশ্রয়প্রার্থীদের কথিত ‘নিরাপদ তৃতীয় দেশে’ পাঠানো সহজ হয়ে যাবে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেও শরণার্থী গ্রহণ নজিরবিহীন মাত্রায় কমিয়ে আনা হয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার অর্থায়ন বন্ধের চিন্তাভাবনা করছে।

ইউএনএইচসিআর-এর তথ্যমতে, তাদের মাধ্যমে পুনর্বাসিত হওয়া মানুষের সংখ্যা ২০২৪ সালের ১ লাখ ১৬ হাজার থেকে কমে ২০২৫ সালে মাত্র ৩৭ হাজারে নেমে এসেছে। আইনি পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে মানবাধিবার ঝুঁকিতে থাকা এসব মানুষ দিন দিন মানব পাচারকারীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক জেফ ক্রিস্পের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শরণার্থী সুরক্ষার পরিবেশ ক্রমেই বিষাক্ত হয়ে উঠছে। পশ্চিমা দেশগুলো শরণার্থীদের দূরে সরিয়ে রাখার নীতি গ্রহণ করায় পুরো দায় এসে পড়ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর, যা বৈশ্বিক ভারসাম্যকে আরও সংকটে ফেলছে।

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com