ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৯ অগাস্ট ২০২৬ | ১২:২০ পিএম

ফাইল ছবি
ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আবুধাবি।
আমিরাতের এ সিদ্ধান্ত ইরানের অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল ও দেশটির সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিট।
আল জাজিরাকে কিমিট বলেন, ইরানের সঙ্গে দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পণ্য ও আর্থিক লেনদেনের গুরুত্ব কম করে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, ইরানে আমদানি করা পণ্যের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী বর্তমানে দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এরপর রয়েছে চীন ও তুরস্ক।
কিমিটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মোট আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রতিবছর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের ভূমিকার কারণে ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের লেনদেন চালানোর সুযোগ পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইরানের সঙ্গে আমিরাতের বাণিজ্য বন্ধের পর অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোও একই ধরনের পদক্ষেপ নেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কিমিট বলেন, আপাতত এসব দেশ পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করবে। তিনি বলেন, ‘আমিরাত ও ইরানের মধ্যে কী ঘটে, সেটিই এখন সবাই দেখবে ও অপেক্ষা করবে।’
কিমিটের মতে, আমিরাতের এ সিদ্ধান্ত এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে ইরান এটিকে যুদ্ধ ঘোষণার কাছাকাছি কোনো পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করতে পারে। এ প্রসঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে জাপানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের উদাহরণও টানেন তিনি।
আমিরাতের এ সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের আমদানি, আর্থিক লেনদেন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্য সূত্র: আল জাজিরা



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত