সর্বশেষ
ঢাকা ডিসি অফিসের এল এ শাখার দুর্নীতির রাজা কানুনগো হারুন অর রশিদের ‘ঘুষ সিন্ডিকেট’ ও বিধিবহির্ভূত নিয়োগের চাঞ্চল্যকর তথ্য দুবাইয়ে শুরু ‘ব্যাংকিং ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি সামিট ২০২৬’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪২, মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ২০২৭ সালে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষাক্রমে যুক্ত হবে চার নতুন বিষয় বাগেরহাটের সাত নদীতে তীব্র ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-ফসলি জমি ‘সিন্ডিকেট’ শব্দটিই যেন না থাকে: খাদ্যমন্ত্রী আদালত প্রাঙ্গণে মায়ের কাছ থেকে কিশোরীকে অপহরণ, এসআরবির হাতে আসামি গ্রেপ্তার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরও জোরালো আন্তর্জাতিক উদ্যোগ চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাইজেরিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৩২ করদাতাদের অর্থ নয়, নিজের টাকায় বিজ্ঞাপন বানাবেন ট্রাম্প

ঢাকা ডিসি অফিসের এল এ শাখার দুর্নীতির রাজা কানুনগো হারুন অর রশিদের ‘ঘুষ সিন্ডিকেট’ ও বিধিবহির্ভূত নিয়োগের চাঞ্চল্যকর তথ্য

সফিউর রহমান সফিক

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ৭:৫৩ পিএম

ঢাকা ডিসি অফিসের এল এ শাখার দুর্নীতির রাজা  কানুনগো হারুন অর রশিদের ‘ঘুষ সিন্ডিকেট’ ও বিধিবহির্ভূত নিয়োগের চাঞ্চল্যকর তথ্য

ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এল এ) শাখা-৩ এর দুর্নীতির রাজা কানুনগো হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা ছাড় করার নামে লাখ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্য এবং নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে সরকারি নীতিমালা ও নিয়োগ বিধিকে তোয়াক্কা না করে একই স্টেশনে বছরের পর বছর অদৃশ্য খুঁটির জোর টিকিয়ে রেখে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

৫% থেকে ২৫% কমিশন:
ক্ষতিপূরণের টাকা ছাড়ে
‘বাধ্যতামূলক’ ঘুষ

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এল এ শাখা-৩ এর আওতাধীন বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত ভূমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা ছাড় করতে কানুনগো হারুন অর রশিদকে নির্দিষ্ট হারে ঘুষ দিতে হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ফাইলের জটিলতা ও হয়রানি এড়াতে মোট ক্ষতিপূরণের অঙ্কের ওপর ৫% থেকে শুরু করে ২৫% পর্যন্ত টাকা কমিশন বা ঘুষ হিসেবে দাবি করেন তিনি। তার দাবি  এই অংকের টাকা দিতে রাজি হলেই ফাইল ছুটে ঝড়ের গতিতে। যে তাদের কথা মত তাদের ঘুষ কমিশন দিতে রাজি না হয় তার ফাইল বছরের পর বছর পড়ে থাকে বিভিন্ন অজুহাতে সম্প্রতি সময়ে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রায় ৫০ কোটি টাকারও বেশি ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড় করার বিপরীতে এই সিন্ডিকেট কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘুষের টাকা না দিলে সাধারণ ভূমি মালিকদের ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয় এমন গুরুতর অভিযোগ কানুনগো হারুনুর রশিদ ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ।

নিয়োগ বিধি লঙ্ঘন:

সার্ভেয়ার থেকে পদোন্নতি পেয়ে একই স্টেশনে বহাল
ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, কোনো কর্মচারী সার্ভেয়ার পদ থেকে কানুনগো পদে পদোন্নতি পেলে তাকে পূর্বের স্টেশনে বা একই কার্যালয়ে বদলিপূর্বক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। বদলি ও পদায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে এই নিয়ম করা হলেও কানুনগো হারুন অর রশিদের ক্ষেত্রে ঘটেছে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা এল এ শাখায় ‘সার্ভেয়ার’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে পদোন্নতি পাওয়ার পর আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে রহস্যজনকভাবে পুনরায় তাকে ঢাকা এল এ শাখাতেই ‘কানুনগো’ হিসেবে পদায়ন করা হয়। এই বিধিবহির্ভূত পদায়নের সুবাদেই তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকা ডিসি অফিসে নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন। ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর ঢাকা এলে শাখা থেকে বদলি দিয়ে অন্যত্র চলে গিয়েছিল হারুন অর রশিদ কিন্তু পদোন্নতি পেয়ে আবার মোটা অংকের অর্থ খরচ করে চাকরির বিধি লংঘন করে আসলেন ঢাকা ভূমি অধিগ্রহণ শাখায়।

দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে জেঁকে বসার রহস্য

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সংবেদনশীল জনগুরুত্বপূর্ণ পদে ৩ বছরের বেশি থাকার কথা না থাকলেও ঘুরেফিরে বছরের পর বছর ঢাকা এল এ শাখায় কামড়ে পড়ে আছেন হারুন অর রশিদ। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ঊর্ধ্বতন মহলের একাংশকে ম্যানেজ করেই তিনি বছরের পর বছর একই শাখায় বহাল তবিয়তে আছেন। তার এই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের কারণেই এল এ শাখা-৩ এ একচ্ছত্র ‘ঘুষের সাম্রাজ্য’ গড়ে উঠেছে, যেখানে সাধারণ নাগরিকরা বৈধ ক্ষতিপূরণের টাকা তুলতে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন কানুনগো হারুন অর রশিদ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।

আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ:

নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ
সাধারণ সরকারি কর্মচারী হয়েও কানুনগো হারুন অর রশিদ ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা বর্তমানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক। ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় নামে-বেনামে জমি, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বিপুল ব্যাংক ব্যালেন্সের পাহাড় গড়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এল এ শাখার দুর্নীতিকে পুঁজি করে অল্প দিনেই তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছন।

সম্প্রতি অর্ধশত কোটি টাকা ছাড় !

কানুনগো হারুন অর রশিদ সিন্ডিকেট সম্প্রতি ঢাকা এল এ শাখা -৩ এ ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় জমির ক্ষতিপূরণ ও অবকাঠামোর প্রায় ৬০ কোটি টাকা ৫% থেকে ১৫% ঘুষ কমিশন নিয়ে কাগজপত্র অসঙ্গতি থাকার পরও তড়িঘড়ি করে এই টাকা ছাড় করার অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত করলে তাদের অনিয়মে বিষয়টি ধরা পড়বে ।
সাধারণ মানুষের দাবি

সার্ভেয়ার থেকে পদোন্নতি পেয়ে একই স্টেশনে পদায়ন এবং জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা ছাড় করতে বিপুল অঙ্কের ঘুষ কমিশন বাণিজ্যের এই অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কঠোর নজরদারি দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা। সাধারণ মানুষের দাবি, এই ‘ঘুষ সিন্ডিকেট’ ভেঙে দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর মাধ্যমে কানুনগো হারুন অর রশিদের অবৈধ সম্পদের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক এবং নিয়োগ বিধির ব্যত্যয় ঘটিয়ে তাকে একই শাখায় রাখার পেছনে কারা জড়িত, তাও খতিয়ে দেখা হোক।
এদিকে সার্ভেয়ার হারুন অর রশিদ এর বিরুদ্ধে ওঠা নিয়োগ সংক্রান্ত ও নানান অনিয়ম দুর্নীতির বিষয় তার বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে ফোন দিলে তিনি বলেন এই ব্যাপারে তিনি কোন কথা বলতে রাজি নন। নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপারে কতৃপক্ষ বলতে পারবেন বলে জানান ।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com