নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ অগাস্ট ২০২৬ | ১০:৫৬ এএম

আমেরিকান পপতারকা ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ এবং তার মানসিক স্বাস্থ্যভিত্তিক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ান্ডারমাইন্ড’-এর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন একদল বিনিয়োগকারী।
গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, ওয়ান্ডারমাইন্ডের সাফল্য এবং কোম্পানিতে সেলেনার ব্যক্তিগত সক্রিয় অংশগ্রহণের ভুয়া আশ্বাস দিয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ‘চিফ ইমপ্যাক্ট অফিসার’ এবং মার্কেটিং প্রধান ছিলেন সেলেনা গোমেজ। তবে মামলার নথি অনুযায়ী, অর্থ প্রদানকারী শেয়ারহোল্ডারদের প্রায় তিন বছর ধরে কোম্পানির কার্যক্রম সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পাঁচজন বিনিয়োগকারী যৌথভাবে অভিযোগ করেছেন, ২০২২ সালে সেলেনার তারকা খ্যাতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিপুল অনুসারীদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে ব্যবসার প্রসার ঘটবে—এমন প্রত্যাশায় তারা প্রতিষ্ঠানটিতে ১২ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪ কোটিরও বেশি টাকা) বিনিয়োগ করেছিলেন।
অথচ মামলায় দাবি করা হয়েছে, এর বিপরীতে গত তিন বছর ধরে পুরো প্রতিষ্ঠানটি ভেতরে ভেতরে ধসে পড়ার উপক্রম হলেও কোনো প্রতিষ্ঠাতা, নির্বাহী কর্মকর্তা বা পরিচালক বিনিয়োগকারীদের এ বিষয়ে কিছু জানাননি। তারা মূলত বিনিয়োগকারীদের অর্থ দিয়ে নিজেদের কোম্পানির পতনকে দীর্ঘায়িত করে গেছেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়।
মামলায় সেলেনা গোমেজের পাশাপাশি তার মা ও কোম্পানির সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (কো-সিইও) ম্যান্ডি টিফি এবং তাদের সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার ড্যানিয়েল পিয়ারসনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, কমন ল জালিয়াতি ও চুক্তি ভঙ্গের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। পিটিশনে বাদীরা তাদের পূর্ণাঙ্গ বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ও আইনি খরচের যাবতীয় পাওনা দাবি করেছেন।
মামলায় আরও দাবি করা হয়, ২০২২ সালে বিনিয়োগ টানার সময় কোম্পানিটির বাজারমূল্য ৯৫ মিলিয়ন ডলার বলে দাবি করা হয়েছিল। সে সময় বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস করানো হয়েছিল যে জেনিপি অর্গান বা জেপি মরগানের মতো বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব, বিশাল বিজ্ঞাপনী চুক্তি, সেলিব্রিটি কভার স্টোরি এবং একটি যুগান্তকারী অ্যাপ নির্মাণের কাজ চলছে।
কিন্তু মামলার নথিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এসব অংশীদারত্ব বা বিজ্ঞাপনী চুক্তির কোনো অস্তিত্বই ছিল না এবং শেষ পর্যন্ত ওই অ্যাপটিও কখনো তৈরি করা হয়নি।
মূলত গত বছর ‘দ্য কাট’-এ প্রকাশিত একটি বিস্ফোরক প্রতিবেদনের পর প্রথম এই অভ্যন্তরীণ সংকটের কথা জানতে পারেন বিনিয়োগকারীরা। সেখানে উল্লেখ করা হয়, অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনে প্ল্যাটফর্মটি চরম সংকটে পড়েছে। মামলাটিতে ওই প্রতিবেদনকে প্রধান ভিত্তি ধরে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মায়ের সঙ্গে সেলেনার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে চুক্তিবদ্ধ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, কোম্পানিটির মোট শেয়ারের প্রায় ৯০ শতাংশই সেলেনা, তার মা ম্যান্ডি এবং সাবেক সঙ্গী পিয়ারসনের যৌথ মালিকানায় ছিল।
মামলার এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে দেখা যায়, সেলেনার মা টিফি স্বয়ং বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছিলেন যে তাদের সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার পিয়ারসন নিউইয়র্ক সিটিতে নিজের প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭২ লাখ টাকা) বাড়িভাড়া মেটাতে বিনিয়োগকারীদের তহবিল ব্যবহার করেছেন। ২০২৩ সালে ওয়ান্ডারমাইন্ড ছেড়ে যান পিয়ারসন।
তবে গত বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে পিয়ারসন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি আদালতের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত এবং তার কাছে থাকা আর্থিক নথিপত্র দিয়ে প্রমাণিত হবে তিনি কখনোই ব্যক্তিগত খরচে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ব্যবহার করেননি।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সেলেনা গোমেজ, ম্যান্ডি টিফি কিংবা ওয়ান্ডারমাইন্ডের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: সিএনএন



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত