নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৩:৩৭ পিএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ে দিতে চায় তার পরিবার। তবে এই বয়সে বিয়ে করতে চান না ওই শিক্ষার্থী। পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে পুলিশে চাকরি করার স্বপ্ন তার। তাই পরিবারের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হাজির হন সে। তার কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ইউএনও।
গতকাল বৃহস্পতিবার শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষার্থীর বাড়ি উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ইউএনও মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থী ইউএনও অফিস চিনত না। সে প্রথমে থানায় যায়, এরপর আমার কার্যালয়ে আসে। আমি তার সব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। মেয়েটি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়লেও তার চিন্তা-ভাবনা অনেক পরিণত। সে গুছিয়ে কথা বলতে পারে। তার কথা আমার ভালো লেগেছে।’
ইউএনও জানান, পরে শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের ডাকা হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকেও ডাকা হয়। চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীর পরিবারকে বিষয়টি বোঝানো হলে তারা মেয়েটিকে বিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়। পরে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে তাকে নগদ অর্থ, প্রয়োজনীয় বই, ব্যাগ ও পোশাক কিনে দেওয়া হয়েছে।
মাজহারুল ইসলাম আরও বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীকে সহযোগিতা করবে উপজেলা প্রশাসন। আমি চলে গেলেও সে ব্যবস্থা করে দিয়ে যাব।’
শিবগঞ্জের শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীর বাবা নেই। তাদের জায়গা-জমিও নেই। তার আরেকটি বোন আছে, কিন্তু কোনো ভাই নেই। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোরকমে সংসার চালান। এরপরও মেয়েটির পড়াশোনার প্রতি খুবই আগ্রহ। ইউএনও তার জন্য যা করেছেন, সেটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমিও ওই শিক্ষার্থীর পড়াশোনা চালিয়ে নিতে সহযোগিতা করব। আমি চাই, সে তার স্বপ্ন পূরণ করুক।’



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত