সর্বশেষ
চিকিৎসকদের অবহেলায় রোগীর ক্ষতি যেন না হয়: প্রতিমন্ত্রী টুকু ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর, কার্যকর ২০৩০ থেকে গাজায় গণহত্যা অব্যাহত, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নতুন অভিযোগ টুপটুপ রেস্তোরাঁয় আগুনে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, নিখোঁজ শিক্ষিকা মুক্তা জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: তারেক রহমান একাদশে ভর্তির আবেদনের শেষ সুযোগ আজ, রাত ৮টায় শেষ হচ্ছে সময় গাজীপুরে ঝুটের গোডাউনে আগুন, দেড় ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে বগুড়ায় আদালত চত্বরে তরুণীকে জোর করে মাইক্রোবাসে তোলার চেষ্টা ব্যালন ডি’অরে ১৩ পুরস্কার, কে জিতলেন কোন বিভাগে

নেপালে টানেলে শত শত শ্রমিক নিখোঁজ, পাহাড়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলছে উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৪৫ পিএম

নেপালে টানেলে শত শত শ্রমিক নিখোঁজ, পাহাড়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলছে উদ্ধার

সংগৃহীত ছবি

নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে শত শত শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারে পাহাড়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পথ তৈরির পাশাপাশি টানেলের ভেতরে বাতাস পাঠানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।

বিবিসি নেপালির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯০০ জনের বেশি কর্মী গত বুধবারের বন্যার পর থেকে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছেন বলে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন। তবে টানেলের ভেতরে ঠিক কতজন আটকা পড়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজরাম বসনেত জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাসুওয়াগাধি, লাংটাং, চিলিমে, আপার ত্রিশুলি ৩এ এবং আপার ত্রিশুলি ৩বি এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছিল।

ত্রিশুলি ৩এ প্রকল্প এলাকায় পাহাড়ের ভেতর বিস্ফোরণ ঘটিয়ে টানেলের দিকে যাওয়ার পথ তৈরির কাজ চলছে। একই সঙ্গে ভেতরে বাতাস পাম্প করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা বলছেন, জীবিত শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

নিখোঁজ প্রকৌশলী অরুস ভান্ডারির স্ত্রী অনুশিলা ভান্ডারি স্বামীর জীবিত ফিরে আসার প্রত্যাশা করছেন। ৩৩ বছর বয়সী অরুস প্রকল্প এলাকায় কাজ করছিলেন। তাঁর স্ত্রী বলেন, তিনি শুধু চান, স্বামীকে জীবিত অবস্থায় বাড়ি ফিরিয়ে আনা হোক।

এদিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৯৩৯ জন এবং তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিখোঁজের সংখ্যা সংশোধন করে ৩ হাজার ৯২৫ জন জানিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ১১ হাজার ৩৭৯ জনকে। উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

চীনা ও নেপালি সামরিক সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক দল উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও অভিযানে সহায়তা করছেন।

নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনেরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত এক নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী সিতা পাণ্ডে বলেন, টানেলের ভেতরে অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকায় তাঁর এখনও স্বামীকে জীবিত পাওয়ার ৫০ শতাংশ আশা রয়েছে।

উদ্ধারকারীরা সপ্তাহের শেষ দিকে একটি টানেলে বাতাস পাম্প করা শুরু করেন। তবে স্বজনদের অভিযোগ, এই কাজ আরও আগেই শুরু করা উচিত ছিল। সোমবার সকালে উদ্ধারকারী একটি দল একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে যাওয়া টানেলে ঢুকতে সক্ষম হলেও ভেতরে কাউকে না পেয়ে ফিরে আসে।

নিখোঁজদের একজনের স্বজন জীবন খড়কা বলেন, সময় যত গড়াচ্ছে, তাঁদের আশা ততই কমে যাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, উদ্ধার অভিযানে প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ।

ত্রিশূলী ১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত নিখোঁজ মিলানের বোন প্রিয়া খারেলও ভাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রকল্প থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, বন্যার সময় টানেলের ভেতরে মানুষ ছিলেন। তাই দ্রুত সেখানে পৌঁছানো গেলে তাঁদের জীবিত উদ্ধারের আশা করছেন তিনি।

অস্ট্রেলীয় প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স দূর থেকে নেপালি কর্তৃপক্ষকে ভূগর্ভস্থ অনুসন্ধান অভিযানে সহায়তা করছেন। তিনি জানিয়েছেন, বন্যার ভয়াবহতায় টানেলগুলোর অবস্থান শনাক্ত করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাট ওয়ান’ অনুষ্ঠানে ডিক্স বলেন, টানেলগুলোর চিহ্ন পর্যন্ত হারিয়ে গেছে। পুরো এলাকা এখন অনেকটা চাঁদের পৃষ্ঠের মতো দেখাচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অবস্থান শনাক্ত করা গেলে সেখানে পৌঁছানোর সবচেয়ে কার্যকর পথ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এজন্য প্রয়োজনে খনন ও বড় পাথরে বিস্ফোরণ ঘটাতে হবে।

ডিক্স বলেন, সেখানে বাড়ির চেয়েও বড় বড় পাথর রয়েছে। তবে ভূগর্ভে আটকে থাকা শ্রমিকদের নিয়ে তিনি কিছুটা আশাবাদী। কারণ ওপরের প্রবল বন্যার সরাসরি ধাক্কা থেকে ভূগর্ভস্থ পরিবেশ তাঁদের কিছুটা সুরক্ষা দিয়ে থাকতে পারে।

ভেসে আসছে মরদেহ, চিতওয়ানে অস্থায়ী দাফন

বন্যার মূল আঘাতের স্থান থেকে অনেক দূরে ভাটির দিকে অবস্থিত চিতওয়ান জেলায় এখন ভেসে আসা মরদেহ নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। হিমালয় অঞ্চলের নদীপথে ভেসে আসা প্রায় ৩০০ মরদেহ ওই এলাকার তীরে জমা হয়েছে।

শনাক্ত করা যায়নি এমন মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে চিকিৎসাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছেন। জেলা প্রধান কর্মকর্তা গণেশ আরিয়াল জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

পর্যাপ্ত ফ্রিজার না থাকায় অস্থায়ীভাবে মরদেহ দাফন করাই শেষ বিকল্প বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে স্থানীয় প্রশাসনও চাপে পড়েছে।

তিব্বতে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১৬ এবং নিখোঁজ ৫৪৬ জন। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

বন্যার ভিডিও ও তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও চীনে কঠোর নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি হিসাবের চেয়ে মৃতের সংখ্যা বেশি বলে অনলাইনে অনুমান প্রকাশ করলে সতর্কবার্তা, জরিমানা কিংবা স্বল্প সময়ের জন্য আটকের মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেপালেও বন্যা নিয়ে ভুল তথ্য বা গুজব হিসেবে বিবেচিত অনলাইন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com