ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৭:১৮ এএম

সংগৃহীত ছবি
নেপাল-চীন সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ গিরং সীমান্ত ক্রসিংয়ের সড়ক ভয়াবহ বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই পুনর্নির্মাণ করেছে চীন। বুধবার সড়কটির শেষ অংশও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর ও কাদার প্রবল স্রোতে গিরং সীমান্ত ক্রসিং এবং এর সঙ্গে যুক্ত সড়কটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্রুত সড়কটি পুনর্নির্মাণের ফলে দুর্গত এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছানো এখন সহজ হবে।
এদিকে নেপালে ভয়াবহ দুর্যোগের পর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন আকাশযানের সহায়তায় নতুন করে আরও ১১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ভূগর্ভস্থ টানেলে ৬০০ জনের বেশি শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, এসব প্রকল্প থেকে এখন পর্যন্ত ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপাল, ভারত ও চীনের যৌথ দল দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপালে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে। এখনো প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
দুর্যোগ মোকাবিলায় চীন আরও সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটি ডিএনএ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞ, ড্রোন ও পানি পরিশোধন সরঞ্জাম পাঠানোর কথা জানিয়েছে। নেপাল জানিয়েছে, দুর্যোগের পর দেশটিতে ৪২ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তা এসেছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, এই দুর্যোগ হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহের অস্থিতিশীলতা থেকেই ভয়াবহ এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত