ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৩৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি
ইয়েমেনে সংঘাতের কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়শিবিরে ঠাঁই নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় দুই লাখে পৌঁছেছে। খাদ্যসংকটের ভয়াবহতায় শিবিরের শিশুরা এখন আশপাশের উপত্যকা থেকে বুনো শস্য ও লতাপাতা কুড়িয়ে এনে নিজেরাই আগুন জ্বালিয়ে রান্না করে ক্ষুধা মেটাচ্ছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইজ ও এডেন প্রদেশের মধ্যবর্তী একটি আশ্রয়শিবিরে টানা ২০ দিনের বেশি সময় ধরে এমন করুণ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বাস্তুচ্যুত শিশুরা।
শিবিরের কাছের উপত্যকায় ঘুরে ঘুরে বুনো শস্য ও গাছপালা সংগ্রহ করছে তারা। পরে সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে বা রান্না করে ক্ষুধা নিবারণের চেষ্টা করছে। যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির কারণে শিশুদের এমন দুর্বিষহ জীবনযাপন মানবিক সংকটের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।
সম্প্রতি সংঘাতের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এসব এলাকায় হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ এসে আশ্রয় নিয়েছেন। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, শিবিরগুলোতে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় দুই লাখে পৌঁছেছে।
প্রাণ বাঁচাতে এসব মানুষের অনেককেই দুই, তিন এমনকি চারবার পর্যন্ত ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছে। ফলে একের পর এক বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়ে তারা এখন অনিশ্চিত ও মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
শিবিরের তাঁবুগুলোও বসবাসের জন্য উপযুক্ত নয়। খাদ্য, পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটের পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব রয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা।
এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের কাছে জরুরি মানবিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী আল-জিন্দানি।
বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ও তাদের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় মানবিক সহায়তা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
রোববার এডেনে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা ও জরুরি ত্রাণবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেলের উপদেষ্টা জন গিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র: আল জাজিরা



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত