ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:১৬ পিএম

চীনের তিব্বত অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধসে পড়েছে ৩৩৯টি বাড়ি, নিহত হয়েছেন ১৮ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৬৫ জন। অন্যদিকে, সুপার টাইফুন ‘চ্যাম্পি’র প্রভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তাইওয়ানে। ঝড়ের প্রভাবে একজনের মৃত্যু ও ৯৪ জন আহত হয়েছেন। দুই দুর্যোগে উদ্ধার তৎপরতা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তিব্বতে ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭। শুক্রবার সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, এতে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে বলা হয়েছে, আহত হয়েছেন ৬৫ জন। তাঁদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর।
ভূমিকম্পে বাড়িঘর ধসে পড়ার পর অনেক বাসিন্দা ঘর ছেড়ে বাইরে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ রাস্তায় রাখা নিজেদের গাড়িতে অবস্থান করছেন। ব্যাহত হয়েছে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ সেবা। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার বরাতে জানা গেছে, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ১২ হাজারের বেশি মানুষকে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বাহিনীর ৩৪৭ জন কর্মীকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছে।
সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এর উৎপত্তিস্থল ছিল পার্বত্য এলাকায়। এটি নাগচু শহরের প্রায় ১৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে এবং তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে ৩৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিতে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের সময় রেস্তোরাঁর কর্মীরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসছেন। সুপারমার্কেটের তাক থেকে বিভিন্ন পণ্য নিচে পড়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে উদ্ধারকর্মীদের তল্লাশি চালাতেও দেখা গেছে। কয়েকটি ভবনের ছাদ ধসে পড়েছে এবং আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি দুর্যোগ মোকাবিলা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বাকেন কাউন্টির মারু টাউনশিপের উপপ্রধান লাওয়াং দাগপো জানিয়েছেন, টাউনশিপ কার্যালয়েও ভূমিকম্পের কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। এতে কার্যালয়ের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।
তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন চ্যাম্পি
এদিকে শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘চ্যাম্পি’কে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে তাইওয়ানে। ঝড়টির প্রভাবে ইতিমধ্যে একজনের মৃত্যু ও ৯৪ জন আহত হয়েছেন। পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছিল ঘূর্ণিঝড়টি। এর বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৯১ কিলোমিটার। ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের আশঙ্কায় দ্বীপটিতে ব্যাপক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে শত শত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ) জানিয়েছে, ঝড়টির বিস্তৃতি প্রায় ৩২০ কিলোমিটার। ফলে দ্বীপটির অধিকাংশ এলাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চ্যাম্পি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে উত্তর দিকে চীনের মূল ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। পরে এটি দক্ষিণ জাপানের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গতিপথ পরিবর্তন হলে তাইওয়ানে সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কাও রয়েছে।
ঝড়ের সতর্কতায় শুক্রবার তাইওয়ানের ২৬২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সব কটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬৬৯টির বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের খবর জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। বন্ধ রাখা হয়েছে দেশটির আর্থিক বাজার। তবে উত্তর থেকে দক্ষিণে চলাচলকারী উচ্চগতির রেলসেবা স্বাভাবিক রয়েছে।
উপকূলীয় শহরগুলোতে মুঠোফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে দমকা বাতাস বয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া রাজধানী তাইপের আশপাশসহ উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় প্রায় এক মিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত