ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:২৯ পিএম

ফাইল ছবি
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দাবি, হামলায় চারটি জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং মাইনের আঘাতে অচল হয়ে পড়ে আরও তিনটি। তবে মাইন হামলার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, হামলার শিকার চারটি জাহাজ তেল স্থানান্তরের কাজে নিয়োজিত ছিল। রাতভর হামলার পর সেগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনের আঘাতে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর এক দিনে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এটিই সর্বোচ্চ ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে হামলায় হতাহতের সংখ্যা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর পতাকা বা জাতীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি আইআরজিসি।
মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
হামলার দাবি জানানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বার্তা সংস্থা ‘সেপাহ নিউজ’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালির অন্য অংশে ট্যাঙ্কার চলাচলে সহায়তা বা নিরাপত্তা দিতে এগিয়ে আসে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হবে।
আইআরজিসির হুঁশিয়ারিতে বলা হয়, এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। একে ‘চরম সতর্কবার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
বিশ্বে ব্যবহৃত মোট খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার দাবি করে আসছে ইরান। তেহরানের অনুমতি ছাড়া জাহাজ চলাচলের চেষ্টা হলে সেগুলোতে হামলার ঘটনাও ঘটছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিরাপত্তা ও পাহারার কার্যক্রম বাড়িয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের হামলার তীব্রতা বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তেলের দাম বাড়াতে হামলার নাটক করছে ইরান: ট্রাম্প
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইরান।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান মনগড়া ও ভুয়া হামলার ঘটনা এবং মাইনের বিষয়ে প্রচার চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, সংঘাত শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে আরও বেশি তেল পরিবাহিত হচ্ছে।
মাইন হামলার দাবি প্রত্যাখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) এক মুখপাত্র ইরানের মাইন হামলার দাবি সম্পূর্ণ অসত্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ওই মুখপাত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ থেকে ইতিমধ্যে মাইন অপসারণ করেছে মার্কিন বাহিনী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান মিসাইল ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি এখনো সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রয়েছে এবং প্রায় ৯৫ শতাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে চলাচল করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয় রসদ থেকে ইরান বঞ্চিত হচ্ছে এবং সাম্প্রতিক হামলাগুলো সেই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া—এমন দাবিও করেছে মার্কিন পক্ষ।
তবে হরমুজ প্রণালিতে হামলার ঘটনা, মাইন ব্যবহারের অভিযোগ এবং জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত