ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৫৫ পিএম

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা জোরদার করাই এ সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৯টায় টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি।
২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, দেশটির বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা এবং শিল্পকারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামো পরিদর্শন করবেন তারেক রহমান।
সফরে প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশেষ গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে ইপিএ স্বাক্ষরের পর বাণিজ্য সম্প্রসারণে যে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।
পাশাপাশি বাংলাদেশে জাপানি শিল্পকারখানা স্থাপন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়েও আলোচনা হবে।
সই হতে পারে একাধিক সমঝোতা স্মারক
সফরকালে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কারিগরি দক্ষতা, বেসামরিক বিমান চলাচল, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে তিন থেকে চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে।
এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
জাইকা, জেবিআইসি ও জেট্রোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক
সফরকালে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং শিল্প খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এলএনজি টার্মিনাল থেকে টয়োটা কারখানা পরিদর্শন
সফরের অংশ হিসেবে চিবা অঞ্চলের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং নাগোয়ায় টয়োটার কারখানা ঘুরে দেখবেন তিনি।
এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে জাপানের উন্নত শিল্পপ্রযুক্তি, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদনব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এতে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা রয়েছেন।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ; বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন; বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মুস্তাকুর রহমান; এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান; পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম; সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী; প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন; হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং আমজনতার পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত