ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:৪০ এএম

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ভারতীয় প্রযুক্তি খাতের হাজারো পেশাজীবী। টাটা, ইনফোসিস ও উইপ্রোর মতো শীর্ষস্থানীয় আটটি আইটি প্রতিষ্ঠানের পারমানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন (পার্ম) প্রক্রিয়া স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে কগনিজেন্ট, এইচসিএল, অ্যাডোবি ও ক্যাপজেমিনির মতো প্রতিষ্ঠানও।
মার্কিন শ্রমবাজারে স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষার যুক্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে এইচ-১বি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বহু ভারতীয় প্রযুক্তিবিদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে পার্ম আবেদন জমা দিতে পারবে না। পাশাপাশি আগে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াও স্থগিত থাকবে।
পারমানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন বা পার্ম হলো নিয়োগকর্তার মাধ্যমে বিদেশি কর্মীর গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ ব্যবস্থায় মার্কিন শ্রম বিভাগ যাচাই করে দেখে, সংশ্লিষ্ট পদে উপযুক্ত মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে কি না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে স্থানীয় কর্মীদের মজুরি বা চাকরির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না।
তবে পার্ম প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিদ্যমান এইচ-১বি ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু গ্রিন কার্ডের আবেদন আটকে গেলে তাঁদের দীর্ঘ সময় অস্থায়ী ভিসার ওপর নির্ভর করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হতে পারে। এতে কর্মীদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত জীবনে অনিশ্চয়তা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অভিযোগ, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো পার্ম ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে তুলনামূলক কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে। এতে মার্কিন নাগরিকেরা চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ কারণে নিয়োগের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এ সিদ্ধান্তের প্রভাব সংশ্লিষ্ট আইটি কোম্পানিগুলোর ওপরও পড়তে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির পাশাপাশি স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বিদেশি প্রযুক্তিবিদদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। পার্ম প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন স্থগিত থাকলে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও ধরে রাখার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে যোগ্যতা ও প্রযোজ্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কিছু কর্মী ইবি-১এ বা ইবি-২ ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েভারের মতো বিকল্প অভিবাসনপথ বিবেচনা করতে পারেন। তবে এসব ব্যবস্থায় আবেদন করতে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয় এবং এগুলো সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।
এর আগে নতুন এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রে এককালীন এক লাখ ডলার ফি আরোপের মার্কিন উদ্যোগ নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে পার্ম প্রক্রিয়া স্থগিতের এই খবর যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত এবং সেখানে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত