নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৫৭ এএম

চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাবার বাড়ি থেকে নাশতা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠা অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সিফাতুন নুর (২২) মারা গেছেন। ঘটনার নয় দিন পর শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত সিফাতুন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাবা মো. নুর। এ ঘটনায় সিফাতুনের শাশুড়িসহ পরিবারের তিন নারীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা মো. নুরের তিন সন্তানের মধ্যে সিফাতুন সবার ছোট। প্রায় পাঁচ মাস আগে পারিবারিকভাবে পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের ইলিয়াছ খাঁ বাড়ির মৃত আব্দুল সবুরের ছেলে দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী বিদেশে থাকায় শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন সিফাতুন।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন সিফাতুন।
গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নিজের হাতে তৈরি নাশতা নিয়ে যান তার মা জুহিনুর আক্তার (৫৫)। নাশতার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৬০) তার বেয়াইন জুহিনুর আক্তারকে মারধর করেন। একই সময়ে পরিবারের অপর দুই সদস্য রাশেদা বেগম (৫৫) ও সুমি আক্তার (৫২) সিফাতুনের চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করেন।
তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করেন।
পরিবারের ভাষ্য, ঘটনার পর রাতেই সিফাতুনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত ১৪ অক্টোবরই পটিয়া থানায় সিফাতুনের শাশুড়িসহ তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তার মা জুহিনুর আক্তার।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, গৃহবধূকে মারধরের বিষয়ে আগেই একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত