সর্বশেষ

দুপুরের খাবারের পর ঘুমঘুম ভাব? যা করবেন

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৪২ পিএম

দুপুরের খাবারের পর ঘুমঘুম ভাব? যা করবেন

সংগৃহীত ছবি

সকালে বেশ চাঙা থাকলেও দুপুরের খাবারের পর অনেকেরই চোখে ঘুমঘুম ভাব আসে। শরীরে আলস্য ভর করে, কাজে মনোযোগ কমে যায়। বিকেল গড়াতেই মনে হয়, দিনের সব শক্তি যেন ফুরিয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই নিজেকে সচল রাখতে চা বা কফির ওপর নির্ভর করেন।

তবে প্রতিদিন একই সময়ে এমন হলে এর পেছনে শুধু কম ঘুম বা অতিরিক্ত ব্যস্ততাই দায়ী নয়। দুপুরের খাবারের ধরন ও পরিমাণ, শরীরে পানির ঘাটতি এবং রাতের ঘুমের মানও এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই কী খাচ্ছেন, তার পাশাপাশি কখন ও কতটা খাচ্ছেন এবং দিনের বাকি সময় কীভাবে কাটাচ্ছেন, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

খেজুরের সঙ্গে ঘি

হঠাৎ দুর্বল বা ক্লান্ত লাগলে অনেকে খেজুরের সঙ্গে সামান্য ঘি খান। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে। অন্যদিকে ঘিতে থাকা চর্বি খাবার থেকে পাওয়া শক্তি তুলনামূলক ধীরে ব্যবহারে সহায়তা করতে পারে।

তবে এটি সবার জন্য সমান উপকারী নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা থাকলে নিয়মিত খেজুর ও ঘি খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

জাফরান দুধ কি উপকারী?

ক্লান্তি কাটাতে অনেকে জাফরান মেশানো দুধ পান করেন। অল্প পরিমাণ জাফরান পানিতে ভিজিয়ে দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। তবে জাফরান দুধকে ক্লান্তি দূর করার নিশ্চিত উপায় হিসেবে না দেখে খাদ্যতালিকার একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করাই ভালো।

দিনের সামগ্রিক খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং পর্যাপ্ত ঘুম—সবকিছুর দিকেই নজর দেওয়া জরুরি।

রাতের খাবারের সময় ঠিক করুন

বিকেলের ঝিমুনির সঙ্গে রাতের ঘুমেরও সম্পর্ক থাকতে পারে। রাতে দেরিতে বা ঘুমানোর কাছাকাছি সময়ে ভারী খাবার খেলে কিছু মানুষের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এর ফলে পরদিন ক্লান্তি ও ঘুমঘুম ভাব দেখা দিতে পারে।

তাই সম্ভব হলে ঘুমাতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা ভালো। প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাসও ভালো ঘুমের জন্য সহায়ক হতে পারে।

দুপুরের খাবার হোক পরিমিত

দুপুরে একসঙ্গে অনেক বেশি খাবার খেলে খাবারের পর ঝিমুনির অনুভূতি বাড়তে পারে। তাই খাবারের পরিমাণের পাশাপাশি পুষ্টির ভারসাম্যের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। নিয়মিত খাবার এবং স্বাস্থ্যকর হালকা খাবারের অভ্যাস দিনের শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পানির ঘাটতি হলে তৃষ্ণা, মাথা ঘোরা ও ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শুধু হজমের সমস্যা নয়

নিয়মিত অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ঝিমুনির কারণ শুধু খাবার হজমের সমস্যা নয়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, পানিশূন্যতা, মানসিক চাপ ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি রক্তস্বল্পতা, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা ঘুমের কিছু সমস্যার কারণেও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি হতে পারে।

তাই কয়েক সপ্তাহ ধরে একই সমস্যা চলতে থাকলে, কিংবা ক্লান্তির কারণে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হলে শুধু চা-কফির ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে উপসর্গের কারণ জানতে চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন।

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com