ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৪২ পিএম

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে বা পড়াশোনার সময় কাজের অনুমতি ও অন-দ্য-জব ট্রেনিংয়ের ফি বহুগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশটিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রাথমিকভাবে দিতে হতে পারে ৭০ হাজার মার্কিন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) অনলাইনে প্রকাশিত প্রস্তাবনায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশি ভিসাধারীদের ওপর কঠোর নজরদারি ও অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ির অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, এফ-ওয়ান ভিসাধারী অভিবাসী নন—এমন বিদেশি শিক্ষার্থীদের অপশনাল প্রাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) সুবিধা পেতে প্রাথমিকভাবে কোনো সার্টিফায়েড বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে ৭০ হাজার ডলার ফি দিতে হবে। পরবর্তীতে অতিরিক্ত কোনো কাজের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হলে আরও ৩০ হাজার ডলার দিতে হবে।
ডিএইচএস বলছে, জালিয়াতি প্রতিরোধ, অভিবাসন ব্যবস্থার সততা ও ভারসাম্য জোরদার এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যেই এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সংস্থাটির ভাষ্য, এফ-ওয়ান ভিসাধারী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় যেসব শর্ত ও নিয়ম মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেন, সেগুলো যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়োগকর্তা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অনুমোদিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।
বর্তমান নিয়মে ওপিটি কাঠামোর আওতায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ বা অন-দ্য-জব ট্রেনিংয়ের সুযোগ পান। পড়াশোনা শেষ করার পরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতি রয়েছে।
এ ছাড়া বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত—অর্থাৎ স্টেম বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা রয়েছে।
বর্তমানে ওপিটির এই সুবিধা পেতে একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে প্রায় ৫০০ ডলার ফি দিতে হয়। সেই তুলনায় নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ফি বেড়ে যাবে কয়েকশ গুণ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে যাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর এর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত