নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ অগাস্ট ২০২৬ | ৭:৫০ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সবুজের বিরুদ্ধে ছুটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রয়োজনের সময় তাকে না পেয়ে সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম সবুজ বিভিন্ন সময়ে মালয়েশিয়া, চীন, নেপাল ও মালদ্বীপসহ একাধিক দেশে ভ্রমণ করেছেন। তবে এসব বিদেশ সফরের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছুটি বা লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এলাকায় অনুপস্থিত থাকলে স্বাভাবিকভাবেই তার দায়িত্ব পালনে ব্যাঘাত ঘটে। বিশেষ করে নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ ও বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্রসহ ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবায় ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর বা সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তাকে পাওয়া যায় না। এতে ওই ওয়ার্ডের সেবাপ্রত্যাশীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
মো. সজীব মিয়া নামের এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জরুরি একটা কাজের জন্য ইউপি সদস্যের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন দেওয়ার পর বন্ধ পাই, পরে উনার বাড়িতে গিয়ে শুনি তিনি বিদেশে ভ্রমণে গেছেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবাপ্রত্যাশী বলেন, প্রয়োজনের সময় ইউপি সদস্যকে এলাকায় পাওয়া যায় না। বিভিন্ন কাজে তার স্বাক্ষর বা সহযোগিতা প্রয়োজন হলে সমস্যায় পড়তে হয়। সময়মতো তাকে খুঁজে না পাওয়ায় অনেকেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, সরকার পতনের পর যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে প্রায় এক বছর আত্মগোপনে থাকলেও ইউপি সদস্য হিসেবে নিয়মিত সম্মানী নিয়েছেন রফিকুল ইসলাম সবুজ। তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
অভিযোগের বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ইউপি সদস্য মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সবুজ বলেন, ‘আমি দেশ-বিদেশে ভ্রমণে থাকাকালে কোনো নাগরিক আমাকে ভোগান্তির কথা জানাননি। একাধিকবার বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছি। তবে বিদেশ যেতে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, সেটা আমি জানতাম না।’
মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিন্টু কুমার আচার্য বলেন, ‘ইউপি সদস্য একাধিকবার বিভিন্ন সময় দেশে-বিদেশে ভ্রমণ করেছেন। তিনি কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করছেন না। প্রায়ই বিভিন্ন দেশে ভ্রমণে চলে যান। এতে নাগরিকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।’
মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম চৌধুরী দীপক জানান, রফিকুল ইসলাম সবুজ একাধিকবার বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন। এ বিষয়ে তার কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেননি। তবে অনেক নাগরিক এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্যারকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বিদেশ ভ্রমণে গেলে সাধারণত লিখিত অনুমতি নিতে হয়, এটাই বিধান। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত