ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৬ অগাস্ট ২০২৬ | ৩:০৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি
মাত্র ছয় মাসে দীর্ঘদিনের সব সমস্যা সমাধান করা কোনো সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, বড় অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ খাতের সমস্যার সমাধানে সময় প্রয়োজন। তাই জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং দেশের স্বার্থে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
বুধবার সংসদ ভবনে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন, সংসদীয় কমিটি গঠন, বিরোধী দলের ভূমিকা, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে কথা বলেন চিফ হুইপ।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। অধিবেশনটি ৫, ৭ বা ১০ দিনের হতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে সময় বাড়ানো হবে।
চিফ হুইপ বলেন, তৃতীয় অধিবেশনে প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিল রয়েছে।
সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার তাদের থাকবে। সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা ঠেকাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জুলাই সনদের ধারাবাহিকতায় জনগণ নির্বাচনী ইশতেহার দেখে ভোট দিয়েছে এবং সরকারের ওপর আস্থা রেখেছে। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
তিনি বলেন, সংবিধানের একটি কমা, দাঁড়ি কিংবা সেমিকোলনের পরিবর্তনও সংবিধান সংস্কারের অংশ। জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত অঙ্গীকারের প্রতিটি বিষয় যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
চিফ হুইপ জানান, সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে বিএনপি থেকে সাতজন ও জামায়াত থেকে পাঁচজন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য ছোট দল থেকেও সদস্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে। বিরোধী দল তাদের সদস্যদের নাম দিলে তাদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানো বিরোধী দলের অন্যতম দায়িত্ব। সংসদের বাইরে অস্থিরতা সৃষ্টি না করে জনগণের সমস্যা ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরে আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করার আহ্বান জানান তিনি।
চলমান সংকট মোকাবিলায় সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, ‘কোনো সরকারের পক্ষে মাত্র ছয় মাসে দীর্ঘদিনের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।’ উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতেই ন্যূনতম দুই বছর সময় লাগে। তাই ছয় মাসে সব সমস্যার সমাধান প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়।
বিদ্যুৎ খাতের চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে করা বিভিন্ন চুক্তি দেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক দায় সৃষ্টি করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার কারণে জনগণের অর্থের ওপর বড় চাপ পড়েছে।
আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তিকে ‘গর্হিত অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, এ চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। দেশের স্বার্থে এ ধরনের চুক্তির অর্থনৈতিক চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
চিফ হুইপ আশা প্রকাশ করেন, তৃতীয় অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদ আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত