ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:২৬ পিএম

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টের আসন্ন সংসদীয় নির্বাচন ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা কট্টর ডানপন্থী দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি) এবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখছে।
নির্বাচনে জয় পেয়ে এককভাবে সরকার গঠন করতে পারলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির ইতিহাসে এটিই হবে প্রথম ঘটনা, যেখানে কোনো কট্টর ডানপন্থী দল এককভাবে একটি রাজ্যের ক্ষমতায় বসবে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৫ বছর বয়সী এএফডির শীর্ষ প্রার্থী উলরিখ সিগমুন্ডের নেতৃত্বে দলটি রাজ্যের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এএফডির নির্বাচনী ইশতেহারে স্কুলে এলজিবিটি পতাকা নিষিদ্ধ করা, নাৎসি আমলের অপরাধের পাশাপাশি জার্মান ইতিহাসের ‘ইতিবাচক’ দিকগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া এবং অনিয়মিত ও ভিন্ন সংস্কৃতির অভিবাসীদের দ্রুত আটক ও নির্বাসনের প্রস্তাব রয়েছে।
সিগমুন্ড বলেছেন, অন্য কোনো দল জোটে না এলে এএফডি এককভাবেই সরকার পরিচালনা করবে। এমনকি দলটির ওপর নজরদারি করা অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার বিলুপ্তির কথাও বলেছেন তিনি।
অন্যদিকে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক মন্দা এবং অভিবাসন ইস্যুতে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়ায় জার্মানির মূলধারার দলগুলোর জনপ্রিয়তা কমছে। এর প্রভাব পড়েছে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের নেতৃত্বাধীন সিডিইউর ওপরও। বিপরীতে এএফডির উলরিখ সিগমুন্ডের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে।
এএফডিকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে মূলধারার দলগুলো ‘ফায়ারওয়াল’ নীতি অনুসরণ করে আসছে। অর্থাৎ দলটির সঙ্গে জোট বা রাজনৈতিক সহযোগিতা না করার অবস্থান নিয়েছে তারা। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সেই বাধা অতিক্রম করার সুযোগ পাবে এএফডি।
দলটির রুশপন্থী অবস্থান নিয়েও জার্মানির নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ রয়েছে। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে রাশিয়া-সমর্থিত অপতথ্য প্রচারণা আরও জোরদার হতে পারে।
স্যাক্সনি-আনহাল্ট ছোট রাজ্য হলেও শিক্ষা, পুলিশ ও আঞ্চলিক আইন প্রয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। তাই সেখানে এএফডির সম্ভাব্য বিজয়কে শুধু আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, এই ফলাফল জার্মানির জাতীয় রাজনীতি এবং ইউরোপের ডানপন্থী রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: বিবিসি



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত