বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:০৩ পিএম

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এল এ) শাখা-২ যেন এক আলাদিনের চেরাগে পরিণত হয়েছে। আর এই চেরাগের সুফল ভোগ করে বছরের পর বছর ধরে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক বনে গেছেন ওই শাখার সার্ভেয়ার আফজাল হোসেন অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে । অনুসন্ধানে একাধিক সূত্রে আরও জানা গেছে ভূমি অধিগ্রহণের টাকা ছাড় করার নামে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৫% থেকে ১৫% পর্যন্ত ঘুষ কমিশন আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠার পর তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি ঘুষ দুর্নীতিতে এখন বেপরোয়া। ঢাকা এল এ শাখায় আফজাল হোসেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্নীতি ও অনিয়মের সাম্রাজ্য চালাচ্ছেন ।
বদলি বাণিজ্যে পুনর্বাসন ও দুর্নীতি অনিয়ম
অনুসন্ধানে একাধিক সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, কিছুদিন আগে অনিয়মের অভিযোগে আফজাল হোসেনকে ঢাকা এল এ শাখা থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু বদলি হওয়ার মাত্র ৪ মাসের মাথায় এক বিশাল অঙ্কের অনৈতিক লেনদেনের (মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে) মাধ্যমে তিনি পুনরায় ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফিরে আসেন। বর্তমানে এল এ শাখা-২ এ কর্মরত থেকে তিনি তার পূর্বের সিন্ডিকেটকে আরও শক্তিশালী করেছেন। এই সিন্ডিকেটের অনুমতি ও নির্ধারিত কমিশন ছাড়া এল এ শাখার ভূমি অধিগ্রহণ জমির ক্ষতিপূরণের কোনো ফাইলের টাকা ছাড় হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বেনামে বিত্তবৈভব ও অঢেল সম্পদের পাহাড়:
ডিসি অফিসের একজন সাধারণ সার্ভেয়ার হলেও আফজালের জীবনযাপন এবং অর্জিত সম্পদের পরিমাণ রূপকথাকেও হার মানায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় তার স্ত্রীর ও নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে। শুধু আবাসন খাতই নয়, পুরান ঢাকার মিডফোর্ড এলাকায় তার নামে ও ছদ্মনামে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্সের হদিস পাওয়া গেছে। একজন সরকারি সাধারণ কর্মচারীর বৈধ আয়ের সাথে এই সম্পদের আকাশ-পাতাল অসঙ্গতি স্পষ্ট।
দুদকের মামলা ও ধামাচাপা
ঢাকা ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় মেগা প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের কয়েক শত কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এই মামলা দায়েরের পর থেকেই নিজেকে বাঁচাতে ও দুর্নীতি ঢাকতে সার্ভেয়ার আফজাল হোসেন চতুর্মুখী তদবির শুরু করেছেন। প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং অর্থশক্তির জোরে এই মামলাটি সম্পূর্ণ ধামাচাপা দিতে তিনি এখন মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
ভুক্তভোগী জমি মালিকদের অভিযোগ, নিজেদের পৈত্রিক বা ক্রয়কৃত জমি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য দিয়েও তারা ন্যায্য ক্ষতিপূরণের টাকা সময়মতো পাচ্ছেন না। ফাইল আটকে রেখে বছরের পর বছর ঘোরানো হচ্ছে। অবশেষে সার্ভেয়ার আফজালের সিন্ডিকেটের দাবি করা ৫% থেকে ১৫% ঘুষ দিতে রাজি হলেই কেবল ফাইল ছাড়ের মুখ দেখে।এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ঢাকা জেলা প্রশাসন যদি অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে থাকবে।
সচেতন মহলের দাবি,
এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার উৎস অন্বেষণ করে তার অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হোক এবং তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য জরুরি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন বিভিন্ন মহল । এর সাথে আর কতকাল চলবে ঢাকা এল এ শাখায় একজন আফজাল হোসেনদের ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম এবং অপকর্মের দৌরাত্ম্যে ? সার্ভেয়ার আফজালের বিরুদ্ধে ওঠা নানান অনিয়ম দুর্নীতি ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করার পরও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত