ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:৫৭ পিএম

লক্ষ্য ২৪২ রান। জয়ের জন্য শেষ ৮৮ রান করতে হবে, হাতে মাত্র ১ উইকেট। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের জয় আশা করাটা ছিল প্রায় অসম্ভব। পরাজয় নিশ্চিত ভেবে গাদ্দাফি স্টেডিয়াম ছেড়েছিলেন অনেক দর্শকও। কিন্তু এরপরই লেখা হলো ওয়ানডে ক্রিকেটের এক অবিশ্বাস্য রূপকথা।
শাদাব খানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি আর হারিস রউফের অসাধারণ লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ১ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। শেষ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রানের জুটি ওয়ানডে ক্রিকেটে সফল রান তাড়ায় গড়েছে নতুন ইতিহাস।
৯৬ বলে অপরাজিত ১১৩ রান করে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন শাদাব। অন্য প্রান্তে ব্যাট হাতে দৃঢ়তা দেখান বোলার হারিস রউফ। তাঁদের অবিশ্বাস্য জুটিতে ভেঙেছে ৫১ বছরের পুরোনো রেকর্ড।
১৯৭৫ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৬৪ রানের জুটি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জিতিয়েছিলেন ডেরিক মারে ও অ্যান্ডি রবার্টস। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন শাদাব ও রউফ।
এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক পাকিস্তান। অন্যদিকে টানা তিন হারে ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। শ্রীলঙ্কা পরের দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারলেই কেবল ফাইনালে ওঠার সুযোগ পাবে ইংল্যান্ড।
ডাকেটের সেঞ্চুরির পরও ২৪১ রানে অলআউট ইংল্যান্ড
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার বেন ডাকেটের সেঞ্চুরির পরও বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি ইংল্যান্ড। ৪৬.৪ ওভারে ২৪১ রানেই গুটিয়ে যায় দলটি। পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি নেন ৪ উইকেট।
ইংল্যান্ডের ইনিংসেও শেষ উইকেটে লড়াই দেখা যায়। গাস অ্যাটকিনসন ও অভিষিক্ত হেনরি ক্রোকম্ব দশম উইকেটে যোগ করেন ৪০ রান।
১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা পাকিস্তান
২৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংলিশ বোলারদের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। জেমি ওভারটন ও অ্যাটকিনসনের পেস এবং লিয়াম ডসন ও উইল জ্যাকসের স্পিনে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
একপর্যায়ে ১৫৪ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে প্রায় নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে পড়ে পাকিস্তান। তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আরও ৮৮ রান। ইংল্যান্ডের জয় তখন সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছিল।
শাদাবের প্রথম সেঞ্চুরি, রউফের অবিশ্বাস্য লড়াই
গত জুনের পর প্রথমবার ওয়ানডে খেলতে নেমেই সবাইকে চমকে দেন শাদাব। চাপের মুখে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। শেষ উইকেটে হারিস রউফকে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি।
দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রানের জুটিতে শাদাবের অবদান ৮১ রান, রউফের ৭। তবে রউফের ১৯ বল উইকেটে টিকে থাকা এবং তাঁর ব্যাট থেকেই জয়সূচক রান আসা—সব মিলিয়ে এই ঐতিহাসিক জয়ে তাঁর অবদানও অনস্বীকার্য।
একপ্রান্তে শাদাবের ব্যাটিং নৈপুণ্য, অন্য প্রান্তে রউফের দৃঢ়তা—দুয়ে মিলে অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলল পাকিস্তান। শেষ উইকেটের এই অবিশ্বাস্য জুটি তাই শুধু একটি জয় নয়, ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে স্মরণীয় এক রূপকথা হয়ে থাকল।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত