ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | ৯:০৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি
যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বিপর্যয়ে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে না পারা এবং এর মধ্যে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছালে ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের প্রবেশপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এ ক্ষেত্রে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তারা দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
অভিবাসন ব্যয় কমানোর আহ্বান
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমাতে হবে। তিন লাখ টাকায় যেখানে বিদেশে যাওয়া সম্ভব, সেখানে সাত থেকে আট লাখ টাকা নেওয়া অনুচিত।
তিনি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে ব্যবসা হালাল উপায়ে পরিচালনা এবং কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, কর্মীদের বিদেশযাত্রার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দ্রুত ভিসার বৈধতা যাচাইয়ের জন্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) আধুনিক প্রযুক্তি চালুর কাজ চলছে। এ ছাড়া অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ইমেইল সেবা চালু ও তা প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গন্তব্য দেশের আইনকানুন যথাযথভাবে মেনে চলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সরকারের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সৌদি আরবে বন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তির আহ্বান
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।
প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক আগামী রমজানে সৌদি আরবে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়ে সৌদি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সমস্যাগুলো যৌথ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনিও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে অভিবাসন ব্যয় কমানোর আহ্বান জানান।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বলেন, সৌদি আরবে দেশটির নিজস্ব নাগরিকদের পর সবচেয়ে বেশি বসবাস করেন বাংলাদেশের কর্মীরা। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে শ্রম খাতে আরও জোরদার ও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিভিন্ন দাবি
আলোচনা সভায় বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা তাকামুল পরীক্ষা প্রক্রিয়া সহজ করা, পরীক্ষার ফি কমানো, বিএমইটির জনশক্তি ছাড়পত্র-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার দাবি জানান।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত