নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ অগাস্ট ২০২৬ | ১:১৮ পিএম

ব্যস্ত ও প্রতিযোগিতাময় জীবনে একটু স্বস্তি ও মানসিক প্রশান্তির খোঁজ সবারই থাকে। আধুনিক জীবনযাত্রার নানা ব্যস্ততার মধ্যেও সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার সহজ পথ দেখায় জাপানি জীবনদর্শন। জটিল কোনো নিয়ম নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাসকে সচেতনভাবে চর্চার মাধ্যমেই তারা খুঁজে নিয়েছে সহজ-সরল জীবনযাপনের উপায়। এসব অভ্যাস আমাদের শেখায়, প্রতিদিনের সাধারণ কাজের মধ্যেও কীভাবে প্রশান্তি খুঁজে পাওয়া যায়।
জাপানিদের জীবনযাপনে ঘরদোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার গুরুত্ব অনেক। তাদের কাছে পরিচ্ছন্নতা শুধু গৃহস্থালির কাজ নয়, বরং মনের অস্থিরতা দূর করারও একটি উপায়। চারপাশের পরিবেশ গুছিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অগোছালোভাবও অনেকটা কমে আসে। একইভাবে ঘরে প্রবেশের সময় জুতো জোড়া সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা বা ‘কুৎসু ও সোরোয়েরু’ চর্চাও তাদের জীবনযাপনের একটি অংশ। বাইরের ব্যস্ততা ও বিশৃঙ্খলাকে দরজার বাইরে রেখে শান্ত পরিবেশে প্রবেশের আগে এই ছোট্ট বিরতি মনকে প্রস্তুত করে।
খাবার গ্রহণের আগে ‘ইতাদাকিমাসু’ বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সংস্কৃতি জাপানিদের খাদ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়। খাবারটি পাতে পৌঁছানোর পেছনে থাকা মানুষের শ্রম ও প্রকৃতির অবদানের কথা স্মরণ করাই এর মূল ভাবনা। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ‘মোত্তাইনাই’ ধারণা। অপ্রয়োজনীয় অপচয় এড়িয়ে চলা, থাকা জিনিস যত্নসহকারে ব্যবহার করা এবং পুরনো বস্তুর মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় এতে। এই অভ্যাস মানুষকে অতিরিক্ত ভোগবাদী মানসিকতা থেকেও দূরে রাখতে পারে।
দিনের কাজ শেষে গরম পানিতে দীর্ঘ সময় স্নান করা বা ‘য়ুবুনে নি সুকারু’ চর্চাও জাপানি জীবনযাপনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। এটি শারীরিক ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি সারা দিনের মানসিক চাপ কমাতেও সহায়ক হতে পারে। নিজের সঙ্গে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটানোর সুযোগও তৈরি হয় এতে।
প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাও জাপানি জীবনরীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ‘শুন’ ধারণার মাধ্যমে তারা প্রতিটি ঋতুর নতুন খাবার, ফলমূল ও প্রাকৃতিক পরিবর্তনকে উপভোগ করে। ঋতুভিত্তিক এই জীবনযাপন মানুষকে প্রকৃতির পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন করে এবং দৈনন্দিন জীবনে বৈচিত্র্য আনে।
এ ছাড়া দিন শুরু করার ক্ষেত্রে ‘হায়াওকি’ বা ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসও জাপানি সংস্কৃতিতে গুরুত্ব পায়। সকালের নীরব ও কোলাহলমুক্ত সময় দিনের বাকি অংশের জন্য ইতিবাচক মানসিক প্রস্তুতি তৈরি করতে পারে।
দৈনন্দিন জীবনের এসব ছোট ছোট অভ্যাস নিজের জীবনে যুক্ত করা গেলে আধুনিক জীবনের নানা ব্যস্ততার মধ্যেও কিছুটা মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত