ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:৫৪ এএম

সংগৃহীত ছবি
এআই দিয়ে তারকাদের চেহারা ব্যবহার করে আপত্তিকর ডিপফেক ভিডিও তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। ভিউ ও অর্থ উপার্জনের জন্য কাউকে হেয় করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কবে থেকে অন্যের অপমান-অসম্মান মানুষের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে মেহজাবীন লেখেন, এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি এবং তাঁকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়, বরং অপরাধ।
তিনি বলেন, একই ধরনের কনটেন্ট যখন শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করেন, তখন তা আর শুধু ব্যক্তিগত অপরাধে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং বড় সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়। এ পরিস্থিতিতে সমাজ হিসেবে আমরা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি, সেই প্রশ্নও সামনে আসে।
মেহজাবীন লেখেন, ‘একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত!’—এ ধরনের প্রচলিত যুক্তিও এখন আর দিতে ইচ্ছে করে না তাঁর। কারণ, কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে হলে তাঁকে নিজের পরিবারের সদস্য হতে হবে কেন?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ, লাইক, শেয়ার ও ট্রেন্ডিংয়ে থাকার প্রতিযোগিতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। তিনি স্বীকার করেন, অনেকের জীবিকা এখন কনটেন্ট তৈরির ওপর নির্ভরশীল। তবে সেই বাস্তবতার অজুহাতে অন্যকে অপমান করে অর্থ উপার্জন কতটা গ্রহণযোগ্য, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মেহজাবীনের ভাষায়, ‘কবে থেকে অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?’
তাঁর মতে, জনপ্রিয়তা বা অর্থের আশায় কাউকে অপদস্থ করার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। প্রত্যেক মানুষেরই সম্মান পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কারও পরিচয় ব্যবহার করে আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, এ সমস্যা এখন শুধু নারী বা পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভিউ, এনগেজমেন্ট ও ট্রেন্ডিংয়ের প্রতিযোগিতায় যে কেউ ক্ষতিকর কনটেন্টের শিকার হতে পারেন, আবার কেউ এর বিস্তারেও ভূমিকা রাখতে পারেন।
মেহজাবীন লেখেন, তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভাবায় শুধু সেই ব্যক্তি নন, যিনি এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি করছেন; বরং সেই অসংখ্য মানুষ, যাঁরা স্বেচ্ছায় তা শেয়ার করছেন, আলোচনা করছেন এবং আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।
পোস্টের শেষে কনটেন্ট শেয়ারকারীদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবেন কি না, ভেবে দেখতে পারেন।’
উল্লেখ্য, একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ হ্যাক হওয়ার পর সেখানে প্রকাশিত মেহজাবীনের একটি ডিপফেক ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি পেজ হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে। তবে এ ঘটনা ঘিরে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত