সর্বশেষ
জনগণের ভোট ও ম্যান্ডেট নিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায় বিএনপি: মীর শাহে আলম বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সানি সিদ্ধিরগঞ্জে গ্রেফতার হাকিমির হ্যাটট্রিকে লে আভরকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করল পিএসজি বলসোনারোর দেশত্যাগে সহায়তার অভিযোগ, আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতকে তলব ব্রাজিলের কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৪৮.০৪%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১,৩১৩ জন, ৪ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস ২৯৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল টঙ্গীতে গোপনে ইয়াবা তৈরির কারখানা, আটক ১ এইচএসসি ও সমমানে পাসের হার ৫২.১২%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন ইউরোপের অস্ত্রবাজারে ভারতের দাপট, চার বছরে রপ্তানি ৮৭ কোটি ডলারের সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে, অপেক্ষার অবসান স্বজনদের

ইউরোপের অস্ত্রবাজারে ভারতের দাপট, চার বছরে রপ্তানি ৮৭ কোটি ডলারের

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:১২ এএম

ইউরোপের অস্ত্রবাজারে ভারতের দাপট, চার বছরে রপ্তানি ৮৭ কোটি ডলারের

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যেন ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানিতে বড় সাফল্য পেয়েছে দেশটি। গত চার বছরে ইউরোপের বাজারে ৮৭ কোটি ২০ লাখ ডলারের অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্ট পণ্য রপ্তানি করেছে ভারত। অথচ যুদ্ধের আগের চার বছরে এ রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৪ কোটি ৯২ লাখ ডলার।

ইউরোপের দেশগুলোতে সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য বড় বাজার তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলার পর নিজেদের সামরিক মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ বাড়িয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ব্লুমবার্গের প্রকাশিত বাণিজ্যসংক্রান্ত তথ্যের বরাতে ডিফেন্স নিউজ এ পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে।

ইউরোপের ১৩ দেশে ভারতের শক্ত অবস্থান

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের ১৩টি দেশে গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্ট পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার পরই ভারতের অবস্থান। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপের প্রতিরক্ষা বাজারে ভারতের উপস্থিতি ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর ইউরোপের দেশগুলো সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করে। এতে কামানের গোলাসহ বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। পাশাপাশি নিজেদের সামরিক মজুত পুনর্গঠন এবং ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজনও বাড়তে থাকে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘রিআর্ম ইউরোপ’ উদ্যোগ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি ও উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের প্রচেষ্টাকে আরও গতিশীল করেছে। ফলে ভারতের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইউরোপের বাজারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে ভারতের রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

শুধু ইউরোপ নয়, সামগ্রিকভাবেও ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানি বেড়ে রেকর্ড ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৬২২ কোটি রুপি।

বর্তমানে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানি করছে ভারত। নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতার সংখ্যা বাড়ার ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিধি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপে সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা বৃদ্ধি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য বড় রপ্তানি সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এই বাজারে দীর্ঘমেয়াদে অবস্থান ধরে রাখতে হলে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখাই হবে ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com