আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬ | ১০:২১ এএম

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক ঐতিহাসিক ও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। অস্ট্রেলিয়ার আদলে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের সরকার। শিশুদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা রক্ষার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার পর বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে এই পথে হাঁটল ব্রিটেন। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, রেডিট, টুইচ, এক্স, থ্রেডস, ফেসবুক এবং কিকের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে।
শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেই থেমে থাকছে না ব্রিটিশ সরকার। একই সঙ্গে গেমিং অ্যাপগুলোর মাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে শিশুদের যোগাযোগ সীমিত করা এবং লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আগামী মাসে কিশোর-কিশোরীদের জন্য ‘সোশ্যাল মিডিয়া কারফিউ’ বা নির্দিষ্ট সময়ের পর ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হতে পারে।
এ বিষয়ে সম্প্রতি তিন মাসব্যাপী একটি সরকারি পরামর্শপর্ব শেষ হয়েছে, যেখানে এক লাখ ১৬ হাজার মানুষ তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। সমীক্ষায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী ৯০ শতাংশ অভিভাবক এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দিয়েছেন। পাশাপাশি ৮৩ শতাংশের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঝুঁকির তুলনায় এর উপকারিতা অত্যন্ত সীমিত।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেন, ‘বর্তমান সময়ে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছি। বর্তমান যে ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে, তা পরিবর্তন করে শিশুদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়েই এই সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল।’
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও করেছেন অনেক সমাজকর্মী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। তাঁদের দাবি, এ ধরনের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা নতুন সমস্যার জন্ম দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল অধিকার ও তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয়, তা জানতে এখন ব্রিটেনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশটির নাগরিকরা।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত