সর্বশেষ
আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীতে দেশের নেতৃত্ব দেবে: মনজুর এলাহী পাইকগাছায় নার্সারীতে গুটি কলম তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা  হবিগঞ্জে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ ১৩৩ দেশের ৩৩৪ প্রতিযোগীর অংশ গ্রহনে মক্কায় ৪৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা শুরু জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ ৪ বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেলেন ইরানের দুই নারী ফুটবলার থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর গুলিতে শিক্ষক নিহত, বন্দুকধারীর আত্মহত্যা সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৮ সিরাজগঞ্জে নৌযান শুমারি উপলক্ষে জেলা পর্যায়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

মৃত্যু ভাতার কোটি টাকার লোভে রুশ সেনাদের বিয়ে, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর প্রতারণার অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ০৬ অগাস্ট ২০২৬ | ১১:৩৪ এএম

মৃত্যু ভাতার কোটি টাকার লোভে রুশ সেনাদের বিয়ে, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর প্রতারণার অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি

ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ায় নতুন ধরনের প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ও কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ব্ল্যাক উইডো’ নামে পরিচিত একটি চক্র সামরিক বাহিনীতে সদ্য যোগ দেওয়া বা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা পুরুষদের বিয়ে করে তাঁদের মৃত্যুর পর সরকারের দেওয়া ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করছে।

এমনই এক অভিযোগ করেছেন রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী মারিয়া। তাঁর দাবি, ৫৯ বছর বয়সী বাবা ইউরি পরিবারের অজান্তেই রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর মাত্র দুই দিন আগে তিনি গোপনে বিয়ে করেন। পরিবারের কেউই বিষয়টি জানতেন না।

মারিয়া জানান, বাবার মৃত্যুর পর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয়, ইউরির নতুন স্ত্রীই তাঁর আইনগত নিকটাত্মীয়। ফলে সরকার ঘোষিত মৃত্যু ভাতার পুরো অর্থ ওই নারীই পাবেন। অথচ জীবিত অবস্থায় তিনি কখনো ওই নারীকে দেখেননি বলেও দাবি করেন।

রাশিয়ায় যুদ্ধে নিহত কোনো সেনাসদস্যের নিকটাত্মীয়কে অন্তত ৫০ লাখ রুবল ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় এক কোটি টাকার সমপরিমাণ। সেনাসদস্যদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালু করা এই সুবিধাই এখন প্রতারণার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের একাধিক ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। কোথাও যুদ্ধের আগে তড়িঘড়ি করে বিয়ে, আবার কোথাও মৃত্যুশয্যায় বিয়ের অভিযোগ সামনে এসেছে। গত বছর একটি সামরিক হাসপাতালের এক নার্সের বিরুদ্ধে চিকিৎসাধীন কয়েকজন গুরুতর আহত সেনাসদস্যকে বিয়ে করার অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

রুশ পার্লামেন্টের সদস্য লিওনিদ স্লুতস্কি বলেছেন, যুদ্ধে অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের পরিবারকে ‘ব্ল্যাক উইডো’ ও আর্থিক প্রতারকদের হাত থেকে রক্ষা করতে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর নতুন সেনাসদস্যদের বিয়ে করতে উৎসাহ দেয় রুশ সরকার। বিয়ের বয়সসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা হয় এবং গণবিয়েরও আয়োজন করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, কিছু প্রতারক চক্র এই নীতির সুযোগ নিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে।

গত বছর সাইবেরিয়ার টমস্ক শহরে ধারণ করা একটি ভিডিও পডকাস্টে এক রিয়েল এস্টেট এজেন্ট প্রকাশ্যে বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে যাওয়া কোনো সেনাসদস্যকে বিয়ে করলে তাঁর মৃত্যুর পর পাওয়া ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে ফ্ল্যাট কেনা সম্ভব। ভিডিওটি প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে ওই এজেন্ট ও অনুষ্ঠানের উপস্থাপককে কমিউনিটি সার্ভিসের দণ্ড দেওয়া হয় এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হয়।

এদিকে রুশ গণমাধ্যমের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দূরপ্রাচ্যের প্রিমোরস্কি ক্রাই অঞ্চলে কিছু সামরিক সদস্য অসহায় পুরুষদের বিয়ের ব্যবস্থা করে পরে তাঁদের ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাতেন, যাতে নিহত হলে ক্ষতিপূরণের অর্থ ভাগাভাগি করা যায়। তবে এ বিষয়ে সরকারি তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

মারিয়ার অভিযোগ, তাঁর বাবা শুধু মৃত্যু ভাতা-সংক্রান্ত প্রতারণারই শিকার হননি, নিজের অ্যাপার্টমেন্টও হারিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, বাবার স্মৃতি ধরে রাখার মতো এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

সূত্র: সিএনএন

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com