ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৩ অগাস্ট ২০২৬ | ১:১৪ পিএম

মার্কিন সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়নের ঘটনা কমলেও ২০২৫ সালেও ২০ হাজারের বেশি সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সদস্য এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন। একই সময়ে যৌন নিপীড়নের আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সংখ্যা বেড়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (পেন্টাগন) বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে আনুমানিক ২০ হাজার ৪৯২ জন সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সামরিক সদস্য যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯ হাজার ৮৬০ জন নারী এবং ১০ হাজার ৬৩২ জন পুরুষ।
২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২৯ হাজার। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে আনুমানিক আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৮ হাজার ৫০০। ২০২১ সালে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫ হাজার ৯০০।
নারী সদস্যদের মধ্যে যৌন নিপীড়নের হার ২০২৩ সালের ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে। পুরুষ সদস্যদের ক্ষেত্রে এ হার ১ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ১ শতাংশ হয়েছে।
তবে ঘটনা কমলেও অভিযোগের সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৫ অর্থবছরে যৌন নিপীড়নের ৭ হাজার ৯৯৮টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়ে। প্রতিবেদনের হিসাবে, আক্রান্তদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেছেন। ২০২৩ সালে এ হার ছিল চারজনের একজন।
পেন্টাগনের মতে, যৌন নিপীড়নের ঘটনা জানানো গুরুত্বপূর্ণ। এতে ভুক্তভোগীরা চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও অন্যান্য পুনর্বাসনমূলক সেবা পাওয়ার সুযোগ পান। পাশাপাশি অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার পথ তৈরি হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যৌন হয়রানির ঘটনাও কমেছে। ২০২৫ সালে আনুমানিক ৪৪ হাজার ৬৫৬ জন, অর্থাৎ ৪ দশমিক ৪ শতাংশ সামরিক সদস্য যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ২০২৩ সালে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। নারী সদস্যদের মধ্যে হার ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে।
বাহিনীভেদেও পার্থক্য রয়েছে। নারী সদস্যদের মধ্যে মেরিন কোরে অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন সংস্পর্শের হার সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। পুরুষ সদস্যদের মধ্যে নৌবাহিনীতে এ হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ। বিমানবাহিনীতে নারী সদস্যদের হার ২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং পুরুষদের ০ দশমিক ৭ শতাংশ।
যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ব্যবস্থাপনা নিয়েও সামরিক সদস্যদের আস্থা কিছুটা বেড়েছে। ২০২৫ সালে ৭২ শতাংশ নারী ও ৮০ শতাংশ পুরুষ সদস্য মনে করেছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করা হয়েছে।
তবে নারী সদস্যদের আস্থার ঘাটতি এখনো রয়েছে। যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ ট্রায়াল কাউন্সেলের বিষয়ে ৬৫ শতাংশ পুরুষ সদস্য ইতিবাচক আস্থা প্রকাশ করলেও নারীদের মধ্যে এ হার ছিল ৪৪ শতাংশ।
অভিযোগ না করার ক্ষেত্রে প্রতিশোধের আশঙ্কাও বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন সংস্পর্শের অভিজ্ঞতা থাকা নারী সদস্যদের ১৭ শতাংশ আইনবিরোধী প্রতিশোধের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। সহকর্মী ও সহযোদ্ধাদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাও অভিযোগ না করার অন্যতম কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৩ সালে যৌন নিপীড়ন, পারিবারিক সহিংসতা, হত্যা ও অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বাধীন আইনি কাঠামো চালু করা হয়। এর আওতায় বিশেষ ট্রায়াল কাউন্সেলের কার্যালয় এসব মামলার তদন্ত ও বিচারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরিচালনা করে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মী ও প্রস্তুতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যান্টনি টাটা বলেন, মর্যাদা, সম্মান ও শৃঙ্খলা সামরিক বাহিনীর আদর্শ এবং সামগ্রিক প্রস্তুতির ভিত্তি। যৌন নিপীড়ন ও হয়রানি এসব মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করে, আস্থা নষ্ট করে এবং সামরিক অভিযানের সাফল্যকে হুমকির মুখে ফেলে।
তবে সরকারি পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অধিকারকর্মী সংগঠন প্রটেক্ট আওয়ার ডিফেন্ডার্স। সংগঠনটির দাবি, আক্রান্তদের অভিযোগ করতে অনীহা বাড়ার কারণেও যৌন নিপীড়নের সংখ্যা কম দেখাতে পারে।
সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ কনলি বলেন, বাস্তবে তাঁদের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সরকারি পরিসংখ্যানের পুরোপুরি মিল নেই। আক্রান্তদের মধ্যে অভিযোগ করার ভয় আগের তুলনায় বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে পেন্টাগন বলছে, যৌন নিপীড়ন ও হয়রানি কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিরোধ ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের মূল্যায়ন, সামরিক শাখাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং ইউনিট পর্যায়ে কার্যক্রম পর্যালোচনার মতো উদ্যোগ রয়েছে।
সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত