সর্বশেষ
স্পাইডার-ম্যানের বাজিমাত, নোলানের ‘দ্য ওডিসি’র নতুন ইতিহাস শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে কাফকোর ২৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় ৩১ আগস্ট জয়খরায় মায়ামিয়া, লজ্জার রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে মেসি প্রধানমন্ত্রী বিটিভিকে বিশ্বাসযোগ্য ও আধুনিক চ্যানেল হিসেবে দেখতে চান: কাজী জেসিন যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্যযুদ্ধে নতুন উত্তাপ, গাড়িতে ৫০% শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের গ্রাম আদালত সক্রিয় করতে সেরা ইউপি-চেয়ারম্যানকে পুরস্কার দেবে সরকার মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চাপ বাড়ছে, তবু মাথা নত করবে না ইরান মার্গারিটা রেউট: রুশ নৌ-কর্মকর্তা হত্যায় অভিযুক্ত সেই নারী কে? হ্রদে সাঁতার, বিরল ‘মগজখেকো’ অ্যামিবার সংক্রমণে ৮ বছরের শিশুর মৃত্যু

গাজায় কবরের জায়গার তীব্র সংকট, পুরোনো কবরেই দাফন হচ্ছে স্বজন

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ২৩ অগাস্ট ২০২৬ | ১২:৫৮ পিএম

গাজায় কবরের জায়গার তীব্র সংকট, পুরোনো কবরেই দাফন হচ্ছে স্বজন

গাজায় যুদ্ধ ও ব্যাপক প্রাণহানির মধ্যে মৃতদের দাফনের জায়গারও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। একের পর এক কবরস্থান পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারকে পুরোনো কবর পুনরায় ব্যবহার করতে হচ্ছে। কোথাও কবরের চিহ্ন হিসেবে রাখা হচ্ছে শুধু একটি পাথর ও কাগজে লেখা মৃতের নাম। আবার কোথাও ধ্বংসস্তূপ, কাদামাটি কিংবা ঢেউটিন দিয়ে তৈরি হচ্ছে অস্থায়ী কবরের চিহ্ন।

জেইতুন এলাকার ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-সাওহি গত ১০ জুন কাজ করার সময় গুলিতে নিহত হন। সামরিক এলাকার কাছে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া বাবার মরদেহ দাফনের জন্য কবরের জায়গা খুঁজতে গিয়ে চরম সংকটের মুখে পড়েন তার ২০ বছর বয়সী ছেলে ওমর আল-সাওহি।

বাবার মরদেহ নিয়ে ওমর জেইতুন কবরস্থানে গেলে দেখেন, যুদ্ধের সময় নিহত অসংখ্য মানুষের কবর পাশাপাশি ঠাসাঠাসি করে রয়েছে। অনেক কবর এতটাই অস্থায়ী যে, সেগুলো চিহ্নিত করতে শুধু একটি পাথরের সঙ্গে মৃতের নাম লেখা কাগজ লাগিয়ে রাখা হয়েছে।

ওমর বলেন, “চারদিকে শুধু বালুর স্তূপ, যার নিচে মানুষকে দাফন করা হয়েছে। যুদ্ধের আগে যেভাবে কবর তৈরি ও যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হতো, এখন আর সেভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না।”

পুরোনো কবরই শেষ ভরসা

গাজায় একটি কবর তৈরিতে বর্তমানে প্রায় ৫০০ শেকেল (১৬৭ ডলার) খরচ হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবারের জন্য সেই অর্থ জোগাড় করাও কঠিন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কবরস্থানে জায়গার সংকট।

ওমর জানান, নতুন কবরের জন্য জায়গা না থাকায় শেষ পর্যন্ত তার দাদার কবরেই বাবাকে দাফন করতে হয়েছে।

যুদ্ধের কারণে শুধু কবরস্থানের জায়গাই নয়, মৃতদের শনাক্ত ও দাফনের ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ভেঙে পড়েছে। হামলার ঝুঁকি এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা অচল হয়ে পড়ায় হাজার হাজার নিহত ফিলিস্তিনিকে ‘নিখোঁজ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

অনেক মরদেহ দাফন করা হয়েছে বাড়ির আঙিনা, তাঁবুর পাশে, বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবির, স্কুল ও হাসপাতালের চত্বরে। যুদ্ধের তীব্রতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই আনুষ্ঠানিকভাবে দাফনের সুযোগও মেলেনি।

২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর হামলার মাত্রা কিছুটা কমলে বহু পরিবার ধ্বংসস্তূপ ও অস্থায়ী কবর থেকে স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে।

গাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোর চত্বরে থাকা সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পরও অন্তত ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

ধ্বংস হয়েছে ৪০টির বেশি কবরস্থান

গাজার ধর্মীয় বিষয়ক ও ওয়াক্‌ফ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় কবরস্থানে প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধ থাকায় মৃতদের দাফনের সুযোগ আরও সংকুচিত হয়েছে।

যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির কারণে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। আগে যেসব জায়গা কবরস্থান হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল, সেগুলোর অনেকগুলো এখন বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।

কবর তৈরির প্রয়োজনীয় সামগ্রীরও তীব্র সংকট রয়েছে। গাজার কর্তৃপক্ষ বলছে, পাথরসহ নির্মাণসামগ্রীর সংকটে বর্তমানে একটি মরদেহ দাফনে ৭০০ থেকে ১ হাজার শেকেল (২৩৫ থেকে ৩৩৫ ডলার) পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।

অর্থের অভাবে অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের ইট-পাথর, কাদামাটি কিংবা ঢেউটিন ব্যবহার করে অস্থায়ীভাবে কবর চিহ্নিত করছে। পরে সামর্থ্য হলে স্থায়ী সমাধিফলক বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

যুদ্ধের আগেই সংকটে ছিল কবরস্থান

গাজার ওয়াক্‌ফ মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ইকরামি আল-মাদাল্লাল জানান, যুদ্ধ শুরুর আগেই গাজার ৬০টি কবরস্থানের অনেকগুলো প্রায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন কবরস্থান স্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, অস্থায়ীভাবে দাফন করা মরদেহগুলো নিয়ম মেনে কবরস্থানে স্থানান্তর করাও বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য ওয়াক্‌ফ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন।

এক কবরস্থানেই ৬০ থেকে ৬ হাজার কবর

খান ইউনিস কবরস্থানে ১৯ বছরের বেশি সময় ধরে কবর খননের কাজ করছেন ৫০ বছর বয়সী তাফেশ আবু হাতাব। তার কর্মজীবনে বর্তমান যুদ্ধই সবচেয়ে কঠিন সময়।

যুদ্ধ শুরুর সময় ওই কবরস্থানে ছিল প্রায় ৬০টি কবর। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজারে। যুদ্ধের এক পর্যায়ে তাকে প্রতিদিন প্রায় ৩৫টি কবর খনন করতে হয়েছে।

তাফেশ বলেন, এত ভয়াবহ রক্তপাত তিনি আগে কখনও দেখেননি। প্রায় প্রতিদিনই কয়েক ডজন নিহতকে দাফন করতে হয়েছে।

তার খনন করা কবরগুলোর অনেকগুলোতেই দাফন করা হয়েছে নারী ও শিশুদের। কখনও ইসরায়েলি হামলায় একটি ভবন, গাড়ি কিংবা তাঁবু ধ্বংস হলে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের মরদেহ একসঙ্গে কবরস্থানে এসেছে।

গাজায় যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এখন শুধু জীবিতদের দুর্ভোগ, বাস্তুচ্যুতি ও ধ্বংসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বিপুল প্রাণহানি, কবরস্থান ধ্বংস, জায়গার সংকট এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাবে মৃতদের শেষ ঠিকানা নিশ্চিত করাও সেখানে আরেক ভয়াবহ মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com