নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ অগাস্ট ২০২৬ | ১১:৪১ এএম

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে চিকিৎসকের অবহেলায় কণিকা রানী মণ্ডল (৩২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বালিয়াকান্দির বাঘুটিয়া গ্রামে কণিকার বাড়িতে গিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ফরিদপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় কণিকার পেটে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। অপারেশনের প্রায় ৫১ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, “এমন সংবাদ আমাদের সরকারকে ব্যথিত করেছে। রাজবাড়ীর সিভিল সার্জনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। এরপর তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনহীন ও অপর্যাপ্ত মানের ক্লিনিকের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের কারণে স্বাস্থ্য খাতে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন অসুস্থ হয়ে কণিকা রানী মণ্ডল ফরিদপুর শহরের ঝিলটুনি এলাকার সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে ওইদিন সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
অপারেশনের পরদিন কণিকার পেট ফুলে যায় এবং তীব্র ব্যথা শুরু হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো হলেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ।
পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কণিকাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তার পেটে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৯ আগস্ট রাত ২টার দিকে কণিকা রানী মণ্ডল মারা যান। তার মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।




© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত