ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২১ অগাস্ট ২০২৬ | ১১:৩৩ এএম

ছবি: -সংগৃহীত
অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় ১ হাজার ২০০ নতুন বসতি নির্মাণের উদ্যোগের নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডা। দেশগুলো ইসরায়েলকে এই পরিকল্পনা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে পশ্চিমা দেশগুলো ইসরায়েলের উদ্যোগকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দেয়।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ বলে বিবেচিত। নতুন করে ‘ই-১’ এলাকায় বসতি সম্প্রসারণের উদ্যোগকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলের কয়েকজন মিত্র।
বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি ইতোমধ্যে অত্যন্ত অস্থিতিশীল। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে এবং ফিলিস্তিনি অর্থনীতিও সংকটের মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বসতি নির্মাণের উদ্যোগ উত্তেজনা আরও বাড়াবে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথকে কঠিন করে তুলবে।
জাতিসংঘের মহাসচিব ও বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ‘ই-১’ পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এই প্রকল্প একটি অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে গুরুতর হুমকি তৈরি করবে।
গত বুধবার ইসরায়েল ১ হাজার ২৩৪টি নতুন বসতি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। এটি গত আগস্টে অনুমোদিত ৩ হাজার ৪০১টি আবাসন ইউনিটের একটি অংশ।
প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই প্রকল্পের অবস্থান পূর্ব জেরুজালেম ও ‘মালে আদুমিম’ বসতির মধ্যবর্তী এলাকায়। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এর আগে বলেছিলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা ‘মুছে ফেলা হচ্ছে’।
দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৯ অক্টোবর। এর মাত্র আট দিন পর, ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে নতুন সরকার চাইলে এই দরপত্র বাতিল করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখলে নেয় ইসরায়েল। এরপর থেকে সেখানে প্রায় ১৬০টি বসতি গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করছেন।
অন্যদিকে, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চান ফিলিস্তিনিরা। এসব এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের পাশাপাশি প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন।
বিশেষজ্ঞ ও ‘ই-১’ প্রকল্পের বিরোধীদের আশঙ্কা, নতুন বসতিগুলো পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। একই সঙ্গে রামাল্লাহ, পূর্ব জেরুজালেম ও বেথলেহেমকে ঘিরে একটি অখণ্ড ফিলিস্তিনি নগর এলাকা গড়ে তোলার সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হবে।
২০২২ সালের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবং ৭ অক্টোবরের হামলার পর গাজা যুদ্ধ শুরু হলে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের গতি আরও বেড়েছে।
সূত্র: বিবিসি



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত