ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২১ অগাস্ট ২০২৬ | ১২:৩৩ পিএম

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। এসব পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নতুন নিষেধাজ্ঞা ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বৈরী নীতিরই ধারাবাহিকতা। তেহরানের দাবি, ১৯৫৩ সালের ১৯ আগস্ট ইরানে সংঘটিত অভ্যুত্থানের বার্ষিকীর সময় নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে ওয়াশিংটন তাদের ‘আইনবহির্ভূত ও আধিপত্যবাদী’ নীতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছে।
ইরানের অভিযোগ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব দেশটির সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের ওপরও পড়ছে। তাই নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক আগ্রাসন একই নীতির ভিন্ন রূপ। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে বিভিন্ন দেশকে নিজেদের নীতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।
তবে এসব চাপের মুখেও জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অবস্থান থেকে ইরান সরে আসবে না বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন ও কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের তেল পাচার নেটওয়ার্ক, অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজ নিবন্ধন ও বিভিন্ন আড়াল করা কোম্পানিকে লক্ষ্য করে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, কোনো দেশ ইরানকে আর্থিক, ব্যবসায়িক বা সরকারি সহায়তা দিলে সেই দেশকেও ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। তার দাবি, ইরানকে চুক্তিতে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও তেহরান তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।
ট্রাম্পের ঘোষণার সমালোচনা করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি একে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অর্থনৈতিক সংকট থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই ইরানের ওপর নতুন করে চাপ বাড়াচ্ছে।
এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের উত্তেজনাও বাড়ছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না তেহরান।
ইরানের দাবি, ওই প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং দেশটির তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা।
সূত্র: এএনআই



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত