ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২১ অগাস্ট ২০২৬ | ১২:৫১ পিএম

আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে লাইবেরিয়ার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জুয়েল হাওয়ার্ড-টেইলরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক পাচার, অবৈধ আমদানি, পরিবহন ও অর্থ পাচারসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার রাজধানী মনরোভিয়ার রবার্টস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিদেশগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার ঠিক আগে ৬৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রায় ৩১৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিশাল কোকেনের চালান উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে জুয়েল হাওয়ার্ড-টেইলরের নাম সামনে আসে। লাইবেরিয়ার পুলিশপ্রধান গ্রিগরি কোলম্যানও তদন্তের সূত্রে সাবেক এই ভাইস প্রেসিডেন্টের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি জুয়েল। বিবিসির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তার আইনজীবী জানান, আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ উপস্থাপনের আগে তারা কোনো মন্তব্য করবেন না।
জুয়েল হাওয়ার্ড-টেইলর ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ উইয়ার অধীনে লাইবেরিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিদ্রোহী নেতা চার্লস টেইলরের সাবেক স্ত্রী।
লাইবেরিয়ার পুলিশ বলছে, জুয়েলের বিরুদ্ধে অনুমোদনহীন নিয়ন্ত্রিত মাদক আমদানি, বিক্রি, পরিবহন, অবৈধ পাচার এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্ররোচনা ও সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ মামলায় দুই ক্রোয়েশিয়ান ও একজন ইউক্রেনীয় নাগরিককেও তাদের অনুপস্থিতিতে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তারা একটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচার নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করছিল।
লাইবেরিয়ার আইনমন্ত্রী অসওয়াল্ড টুয়েহ বলেছেন, পলাতক তিন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তারে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জুন ও জুলাইয়ে দুটি বড় অভিযানে বিপুল পরিমাণ কোকেন উদ্ধারের পর দেশটিতে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়। জুলাইয়ের অভিযানে প্রায় চার টন কোকেন জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩১৭ মিলিয়ন ডলার। কর্তৃপক্ষের ধারণা, চালানটি ইউরোপে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল।
সরকার বলেছে, তদন্ত শুধু মাদক পরিবহনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অর্থের জোগানদাতা, মূল পরিকল্পনাকারী এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে যারা অপরাধীদের সুরক্ষা দিয়েছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো পদই আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং রাজনৈতিক প্রভাব বা পরিচয় কাউকে আইনি জবাবদিহি থেকে রক্ষা করবে না।
দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইউরোপে কোকেন পাচারের ক্ষেত্রে পশ্চিম আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পাচারকারীরা এ অঞ্চলের দুর্বল সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগের সীমাবদ্ধতার সুযোগ নেয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: বিবিসি



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত