ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২১ অগাস্ট ২০২৬ | ১১:২৭ এএম

ছবি: -সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের (পেন্টাগন) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত ১৮ মার্কিন সেনা নিহত এবং ৭৫৭ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার পেন্টাগনের যুদ্ধ হতাহতসংক্রান্ত তথ্যভান্ডার হালনাগাদ করার পর দেখা যায়, গত কয়েক দিনে নতুন করে ৫০ জনের বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এতে ইরান সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালিসিস সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, ‘ওভারসিজ অপারেশন্স’ ও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র তথ্য একত্রে হিসাব করলে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ জন নিহত ও ৭৫৭ জন আহত হয়েছেন।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের পাল্টা হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত অবস্থানগুলোতে ধারাবাহিক হামলার কারণেই হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
তবে পেন্টাগনের প্রকাশিত তথ্য নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। গত মাসে প্রতিরক্ষা বিভাগ তাদের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে ‘ওভারসিজ অপারেশন্স’ নামে নতুন একটি বিভাগ যুক্ত করে। সেখানে ৭ জুলাই থেকে নিহত ও আহত মার্কিন সেনাদের তথ্য নথিভুক্ত করা হচ্ছে। কিন্তু এসব সেনা ঠিক কোন সংঘাত বা অঞ্চলে হামলার শিকার হয়েছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি পেন্টাগন।
বিশেষজ্ঞদের কাছে ৭ জুলাইয়ের তারিখটিও গুরুত্বপূর্ণ। ওই দিনই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্টের আওতায় মার্কিন কংগ্রেসকে ইরানকে ঘিরে নতুন পর্যায়ের সংঘাত শুরুর বিষয়টি অবহিত করেছিল।
এর আগে পেন্টাগনের হতাহতসংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। ইরানি হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যেই একপর্যায়ে নিহতের সংখ্যা কমে যায়। চার সেনার মৃত্যু ও আরও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্যও তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সেগুলো আবার যুক্ত করা হয়।
পেন্টাগন অবশ্য ওই সময় দাবি করেছিল, সাময়িক ডেটা বিপর্যয় বা কারিগরি ত্রুটির কারণে পরিসংখ্যানে এই অসঙ্গতি দেখা দিয়েছিল।
তবে যুদ্ধের শুরু থেকেই আহত সেনাদের সঠিক তথ্য প্রকাশে পেন্টাগনের ধীরগতির নীতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে সামরিক প্রশাসন আহত সেনাদের প্রকৃত তথ্য প্রকাশে অনীহা দেখিয়েছে।
এদিকে বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি ‘চমৎকার’ এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে একই সময়ে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়া এবং হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ ও তেলবাহী জাহাজ ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির ভিন্ন চিত্রই সামনে আসছে।
সূত্র: সিএনএন



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত