সর্বশেষ
নরসিংদীতে ২ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে গাছের চারা বিতরণ ‘একটা শাড়ির জন্য আদালতে আসব, এটা কাম্য নয়’ মালয়েশিয়ায় বজ্রপাতে কসবার যুবকের মৃত্যু শিশু মাহিদা ধর্ষণ-হত্যা: জাহিদুলের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মামলা ও আসামি গ্রেপ্তার নিয়ে আদালতে তোলপাড় ইব্রাহিমি মসজিদে বেন-গভির, ফিলিস্তিনিদের ওপর কড়াকড়ি মুন্সীগঞ্জে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে ২৭ হাজার টাকা জরিমানা ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শিক্ষা সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ নবীনগরের ঐতিহাসিক মঠ ধ্বংসের মুখে গাইবান্ধায় অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে জরিমানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মামলা ও আসামি গ্রেপ্তার নিয়ে আদালতে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৩:২১ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মামলা ও আসামি গ্রেপ্তার নিয়ে আদালতে তোলপাড়

সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানায় দায়ের করা একটি মামলা ও আসামিদের গ্রেপ্তার নিয়ে আদালত অঙ্গনে তোলপাড় চলছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারিক স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা রক্ষায় উচ্চপদস্থ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তা দিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রয়োজন বলে আদালত মনে করেছেন।

জানা গেছে, কসবা জি.আর. ৩৯৩/২৬ নম্বর মামলায় বিল্লাল হোসেন প্রকাশ কসাই মনির ও সুজন মিয়া নামে দুই আসামি জেলহাজতে আটক রয়েছেন। এরই মধ্যে তাদের শো-অ্যারেস্টের দরখাস্ত শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আসামি মনির, সুজন মিয়া ও মো. রুমন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারের পর তাদের নিকটাত্মীয় হিসেবে প্রত্যেকের পিতাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে গ্রেপ্তার স্মারকে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে তারা আদালতকে জানান, তাদের পিতা ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন।

বিষয়টি আদালতের কাছে সন্দেহজনক প্রতীয়মান হয়। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার স্মারক যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ না করায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) কাজী ছানোয়ার হোসেনকে আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেন এবং একই দিনে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মনির, সুজন মিয়া ও রুমন ভূঁইয়ার সংশোধিত গ্রেপ্তার স্মারক পুনরায় দাখিল করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা ব্যাখ্যায় বলা হয়, গ্রেপ্তারের পর আসামিরা এজাহারে বর্ণিত নাম ও ঠিকানা প্রদান করলেও তাদের পিতা মৃত বা মৃত্যুবরণ করেছেন—এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি।

এখানে উল্লেখ্য, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৪৬(এ) ধারার বিধান অনুযায়ী, আসামি গ্রেপ্তারের পরপরই গ্রেপ্তার স্মারক (Memorandum of Arrest) যথাযথভাবে পূরণ করার বিধান রয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই স্মারকের ১৩ নম্বর কলামে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পরিবার, আত্মীয়, নিকটজন বা প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়েছে কি না—তা সঠিকভাবে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

অথচ এ মামলায় তিন আসামির মৃত পিতাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিয়ে সংশোধিত গ্রেপ্তার স্মারক পুনরায় দাখিল করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার এ গুরুতর ও অস্বাভাবিক ত্রুটি নথিপত্রে দৃশ্যমান হওয়ায় এজাহারের সত্যতা এবং পুলিশের গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আদালতের মনে বস্তুনিষ্ঠ সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যায়।

মামলার নথি থেকে আরও জানা যায়, তালতলা চৌরাস্তা পয়েন্টটি দীর্ঘদিন ধরে ভারত সীমান্তবর্তী অবৈধ পণ্য ও মাদকের বড় চালান পরিবহনের কৌশলগত রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত বাদশাহ জুয়েল এবং কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদের পরোক্ষ যোগসাজশে পূর্বতন সিন্ডিকেটের অংশীদারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সরিয়ে দিয়ে ওই রুটে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সাজানো মামলা তৈরি করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানা যায়নি।

এ অবস্থায় বিচারিক স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা রক্ষায় উচ্চপদস্থ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তা দিয়ে মামলাটির তদন্ত করা প্রয়োজন বলে আদালত মনে করেছেন। আদালতের আদেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিচে নন—এমন একজন দক্ষ ও নিরপেক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।

বিষয়টি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ডিআইজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ সুপার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ এবং এসআই (নিরস্ত্র) কাজী ছানোয়ার হোসেনকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

কসবা থানার অফিসার ইনচার্জের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। তবে মামলার নম্বর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর কথা বলে তিনি ফোন রেখে দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী ছানোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আদালতকে ব্যাখ্যা দিয়েছি। বিষয়টি মামলার বাদী পূরণ করার কথা, এটি তাঁর বিষয় নয়।’ এ সময় তিনি ‘আমি ওসি স্যারের সঙ্গে মিটিংয়ে রয়েছি’ বলে ফোন রেখে দেন।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com