নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:২৪ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২২ বছর বয়সী তরুণ নজরুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতে পারেনি পরিবার। ছেলের সঙ্গে শেষবার কথা বলা কিংবা তাঁর মৃত্যুর খবর সরাসরি জানার সুযোগও পাননি মা-বাবা। ভাতিজার মৃত্যুর খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তাঁর ফুফু আবেদা বেগম।
নজরুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের একটি কৃষক পরিবারের বড় সন্তান। পরিবারের অভাব দূর করার আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে যান তিনি। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন।
সৌদি আরবে যাওয়ার ছয় মাসের মাথায় মক্কার একটি মসজিদ থেকে সুইটি আক্তার নামে এক তরুণীসহ নজরুলকে অনৈতিক কাজের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। এরপর রিয়াদ ও মক্কার কারাগারে তিন বছর তিন মাস বন্দি ছিলেন তিনি।
নজরুলের মা রহিমা বেগম জানান, কারাগারে থাকা অবস্থায়ও প্রতি রোববার নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে কথা বলতেন তাঁর ছেলে। কিন্তু গত সপ্তাহে আর ফোন আসেনি। পরে গণমাধ্যমের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন, নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুইটি আক্তারেরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা আব্দুল বাছির। অসুস্থ শরীরে কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “আমার ছেলে কী অপরাধ করেছে, আমি জানি না। একমাত্র আল্লাহই জানেন। কিন্তু কেন আমাদের একবার জানতেও দেওয়া হলো না?”
পরিবারের দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাঁদের কিছুই জানানো হয়নি। ছেলের সঙ্গে শেষবার কথা বলার সুযোগও পাননি তাঁরা। এমন আকস্মিক ঘটনায় পুরো পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ভাতিজার মৃত্যুর খবর শোনার পর বুধবার রাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নজরুলের আপন ফুফু আবেদা বেগম। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় নজরুলকে হারিয়ে মা-বাবার আহাজারি আর ফুফুর আকস্মিক মৃত্যুতে বিরামপুর গ্রামে এখন শোকের মাতম।
নজরুলের মরদেহ দ্রুত রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁর স্বজন ও এলাকাবাসী। শেষবারের মতো ছেলের মুখ দেখে তাঁকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করতে চান শোকাহত বাবা-মা।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত