ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:৪২ পিএম

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘সহযোগী সদস্য’ হিসেবে কানাডাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব থেকে সরে এসেছে জোটটি। কানাডা ও ইইউর যৌথ ঘোষণার খসড়া থেকে ‘সহযোগী সদস্য’ ও ‘সহযোগী সদস্যপদ’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ ও ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির আয়োজনে বৃহস্পতিবার মন্ট্রিলে ইইউ-কানাডা শীর্ষ সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা। সম্মেলন সামনে রেখে প্রস্তুত করা যৌথ ঘোষণাটি শুক্রবার প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন কানাডাকে ২৭ সদস্যের ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইউরোপ ও কানাডার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে প্রস্তাবটি গুরুত্ব পেয়েছিল।
তবে কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে রয়টার্স ও ডিপিএ জানিয়েছে, প্রস্তাবটি ইইউর সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি করে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসসহ কয়েকটি দেশের নেতা যৌথ ঘোষণার খসড়া থেকে সহযোগী সদস্যপদের বিষয়টি বাদ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন।
পরিবর্তিত খসড়ায় কানাডা ও ইইউর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকার রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপ, কানাডা ও এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে নতুন সমুদ্রতলদেশীয় কেবল অবকাঠামো নির্মাণের যৌথ উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া কানাডা থেকে ইউরোপে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে যৌথ সমীক্ষা এবং আটলান্টিকের দুই পাড়ের তরুণ কানাডীয় ও ইউরোপীয়দের কাজের সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।
ট্রাম্পের শুল্কনীতির পর যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত নির্ভরতা কমানোর কৌশলের অংশ হিসেবে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ নিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ, কানাডার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র।
এর আগে কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাবকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, এই উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচনা করা হলে ইউরোপের সঙ্গে অনেক বিষয়ে বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারে ওয়াশিংটন।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কার্নি বলেন, আসন্ন সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ইইউ ও কানাডার মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও এক বছর লাগতে পারে। তাঁর ভাষায়, সদস্যপদের নাম বা পরিভাষা বড় বিষয় নয়; বরং এই সম্পর্ক কানাডার মানুষের জীবনে কী পরিবর্তন আনবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স ও ডিপিএ



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত