জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ০৭ অগাস্ট ২০২৬ | ১১:২৭ এএম

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ

ছবি: -সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (বার্থরাইট সিটিজেনশিপ) সীমিত করার লক্ষ্যে দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কয়েক সপ্তাহ আগেই দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সংবিধান অনুযায়ী জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বহাল রেখে ট্রাম্পের আগের উদ্যোগকে আইনবহির্ভূত বলে রায় দিয়েছিল।

নতুন নির্বাহী আদেশ দুটির একটি জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিদ্যমান ব্যতিক্রমের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। বর্তমানে বিদেশি কূটনীতিক ও শত্রু বাহিনীর সদস্যদের সন্তানরা এ সুবিধা পায় না। নতুন প্রস্তাবে কথিত সন্ত্রাসী, নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিদের সন্তান এবং নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে জন্ম নেওয়া কিছু শিশুকেও নাগরিকত্বের আওতার বাইরে রাখার কথা বলা হয়েছে।

অন্য নির্বাহী আদেশে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে গর্ভবতী নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতাকে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বলা হয়।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের সমালোচনা করে বলেন, আদালত এ বিষয়ে ‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক’ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, তার প্রশাসন জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়ে নতুন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন ট্রাম্প। এতে বলা হয়েছিল, অস্থায়ী ভিসাধারী বা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের সন্তানরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য হবে না।

তবে চলতি বছরের জুনে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ট্রাম্পের ওই উদ্যোগ সংবিধানের নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নয় সদস্যের বেঞ্চের ছয় বিচারপতি ট্রাম্পের অবস্থানের বিপক্ষে মত দেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন নির্বাহী আদেশগুলোও আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ কিম্বারলি ওয়েহলের মতে, এসব আদেশ আদালতে টিকে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। তার ধারণা, কট্টর সমর্থকদের আকৃষ্ট করতেই ট্রাম্প এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন।

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com