বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৫:২৮ পিএম

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার বিতর্কিত সার্ভেয়ার মুজিবুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বদলির আদেশ জারি করেছে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়। আজ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুরে তাকে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। তবে এই বদলির আদেশ ঠেকাতে এবং ঢাকার লুপরেটিভ কর্মস্থলে বহাল থাকতে মুজিবুল হক কোটি টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল থেকে জোর তদবির চালাচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে ।সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র এ তথ্য জান গেছে ।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের একাধিক প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ দোসর হিসেবে পরিচিত সার্ভেয়ার মুজিবুল হকের বিরুদ্ধে ঢাকা এলএ শাখায় দায়িত্ব পালনকালে গ্রাহক হয়রানি, ফাইল আটকে রেখে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ ঢাকা জেলা প্রশাসকে কার্যালয় এল এ শাখা থেকে তাকে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বদলি করে আদেশ জারি করা হয়। কিন্তু বদলির এই আদেশ জারির পর থেকেই তা বাতিলের জন্য ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছেন অভিযুক্ত এই কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বদলি ঠেকাতে তিনি বিশাল অঙ্কের টাকার বাজেট নিয়ে মাঠে নেমেছেন। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারকে ম্যানেজ করতে এবং সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের চাপ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিগত সরকারের সুবিধাভোগী কিছু চক্র এবং বর্তমান প্রশাসনের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে একের পর এক ফোন করিয়ে এই বদলি বাতিলের জন্য তদবির চালানো হচ্ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনের শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের ঢাকার বাইরে পাঠানোর নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবেই এই বদলি করা হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে তদবির ও সুপারিশের ফোন আসার বিষয়টি স্বীকার করলেও তিনি জানান, কোনো ধরনের অনৈতিক চাপ বা প্রভাবের কাছে প্রশাসন নতি স্বীকার করবে না এবং এই বদলির আদেশ বহাল থাকবে।
এদিকে, বদলি ঠেকানোর এই অনৈতিক মিশন ও কোটি টাকার ছড়াছড়ির অভিযোগ ওঠার পর সাধারণ সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, কেবল বদলিই সমাধান নয়; বিগত সরকারের আমলে এলএ শাখার মতো স্পর্শকাতর স্থানে বসে মুজিবুল হক কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি নানান অনিয়মের করে পাহাড় সমান সম্পদ এর মালিক হয়েছেন তিনি । এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং গ্রেপ্তার হয়ে জেল হাজতে যান। কয়েক মাস আগে মোটা অংকের অর্থ খরচ করে পুনরায় ঢাকা এল এ শাখা যোগদান করেন মুজিবুল হক । আগস্ট ও চলতি মাসে গত কয়েক দিনে এল এ শাখা থেকে জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের প্রায় শত কোটি টাকা কাগজপত্র অসঙ্গতি থাকার পরও ছাড়ের ব্যবস্থা করেন ১১% ঘুষ কমিশনের মাধ্যমে। সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট জমির কাগজপত্র যাচাই না করে সড়ক ও জনপদের জমি ব্যক্তি মালিকানায় দাবির ১৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রকৃতপক্ষে জমির মালিক সড়ক ও জনপদ ।
এদিকে বিভিন্ন মহলের দাবী যারা দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছেন এবং অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।




© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত