ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১:১৭ পিএম

ফাইল ছবি
ইরানকে ঘিরে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন, ইরানকে নিশ্চিহ্ন করা, দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা কিংবা একটি চুক্তিতে পৌঁছানো—এই তিন পথের যেকোনোটি বেছে নিতে পারেন তিনি।
রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘গোটা দেশটাকেই উড়িয়ে দেব নাকি? দিলে কখন দেব?’ একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরান নিয়ে তিনি এখন ‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুডে’ রয়েছেন। অদূর ভবিষ্যতেই ‘অনেক বড় কিছু’ ঘটতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে শনিবার নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্যাম্প ডেভিড থেকে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন ট্রাম্প। এরপর থেকেই ইরান নিয়ে তার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।
ইরানকে নিয়ে এর আগেও কঠোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। দেশটিতে বোমা হামলা চালিয়ে তাদের ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। এপ্রিলে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘আজ রাতে একটা গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।’
ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যের মধ্যেই ইরানের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন গোয়েন্দা তথ্য তাদের হাতে রয়েছে। হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আঘাত করার পাশাপাশি দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদেরও লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের কালিবাফ বলেছেন, শত্রুদের মোকাবিলায় ইরানকে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে কূটনীতির মাধ্যমে অর্জনগুলো ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।
এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তার বৈঠক হতে পারে। যুদ্ধের অবসান নিয়ে এর আগে একাধিকবার আলোচনার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে যুদ্ধের প্রভাব
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে। ১৯ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। এর আগে চলতি মাসে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধেও হুথিরা নতুন করে সামরিক সাফল্য অর্জন করে।
লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে হুথিদের নিয়ন্ত্রণের ফলে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানিও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।
যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও। দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ৫০ ডলারের ওপরে উঠে নতুন রেকর্ড করেছে। নিয়মিত পেট্রলের দামও বেড়ে প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৪৭ ডলারে পৌঁছেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাবে, ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় হয়েছে অন্তত ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ব্যবহৃত বোমা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রসহ অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনে পেন্টাগনের ব্যয় হয়েছে ২৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।
তবে এই হিসাবের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর অবকাঠামো মেরামতের ব্যয় ধরা হয়নি। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুতেও ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ।
এখন ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান। একদিকে নতুন হামলার আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, অন্যদিকে ট্রাম্প বলছেন, শিগগিরই ‘অনেক বড় কিছু’ ঘটতে পারে।
সূত্র: ইউএসএ টুডে



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত