সফিউর রহমান সফিক
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | ১০:২৪ পিএম

রাজধানীর বাউনিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অনিয়ম-দুর্নীতি পর্ব-১
রাজধানী ঢাকার মিরপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজস্ব সার্কেলের অধীনস্থ বাউনিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস যেন অনিয়ম, দুর্নীতি আর প্রকাশ্য ঘুষ বাণিজ্যের এক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। আর এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে অভিযোগ উঠেছে একই অফিসে বছরের পর বছর ধরে জেঁকে বসা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আব্দুল রহিম এর বিরুদ্ধে। এদিকে অনুসন্ধানে একাধিক সূত্রে জানা গেছে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ভূমি সেবার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে তিনি এখন বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি তার ঘুষ দুর্নীতি নানান অনিয়মের ঘুষ লেনদেনের ভিডিও চিত্র ও এই ভূমি অফিসের নানান – অনিয়ম দুর্নীতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাউনিয়া ভূমি অফিসের তহশিলদার আব্দুর রহিম এখন বেপরোয়া ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা ও নীতিমালা উপেক্ষা করে এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় দীর্ঘ বছর ধরে একই স্টেশনে বহাল তবিয়তে আছেন এই কর্মকর্তা। যার ফলে দুর্নীতির বীজের শিরা-উপশিরা অনেক বিস্তৃত হয়েছে। প্রকাশ্য আব্দুর রহিম মিরপুর সহকারী কমিশনার ভূমি ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তাদের নাম বিক্রি করছে অহরহর। তার বিভিন্ন দম্ভুক্তিতে মনে হয় মিরপুরের সহকারী কমিশনার ভূমি, ঢাকা জেলা প্রশাসন ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তার কাছে অসহায়। এমন কি তার ক্ষমতার উৎস। যার কারণে দীর্ঘ সাত বছর একই স্টেশনে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে আছে বহাল তবিয়তে।
🔍 অনিয়ম ও দুর্নীতির যত কৌশল
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাউনিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না। সাধারণ মানুষ জমি খারিজ (নামজারি), খাজনা প্রদান কিংবা দাখিলা কাটার মতো মৌলিক সেবা নিতে এসে পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। টাকা ছাড়া কোন ফাইলই প্রসেসিং হয় না এই অফিস থেকে আব্দুর রহিমের সিন্ডিকেটের ইশারা ছাড়া।
কৃত্রিম সংকট তৈরি
বাউনিয়া ভূমি অফিসে ভূমি সেবার সাধারণ গ্রাহকদের ফাইল আটকে রেখে নানা ধরনের ভুয়া ত্রুটি বা কাগজের ঘাটতি দেখিয়ে হয়রানি করা হয়। পরবর্তীতে তহশিলদার আব্দুর রহিম সিন্ডিকেটের সাথে মোটা অঙ্কের চুক্তি বা ঘুষের বিনিময়ে সেই ফাইল মুহূর্তেই নিষ্পত্তি হয়ে যায়।
দালাল সিন্ডিকেট
বাউনিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভেতরে ও বাইরে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ( তহশিলদার )আব্দুর রহিমের নিজস্ব একটি শক্তিশালী দালাল বলয় রয়েছে। এই দালালদের মাধ্যমে ঘুষের টাকা লেনদেন করা হয়, যাতে সরাসরি কোনো প্রমাণ না থাকে।
কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ
ভূমি সেবাকে পুঁজি করে গত কয়েক বছরে আব্দুর রহিম ঢাকা ও এর আশেপাশে বিপুল পরিমাণ বেনামী সম্পত্তি, বাড়ি ,একাধিক ফ্ল্যাট এবং বিঘার পর বিঘা জমি ক্রয় করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে সু চতুর আব্দুর রহিম এসব সম্পদ স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজন এবং নামে বেনামি করেছে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে তার মোটা অংকের পুঁজিবি বিনিয়োগ। বিভিন্ন আর্থিক ও ব্যাংক প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকার এফ ডি ও ব্যাংক ব্যালেন্স।
⏳ বছরের পর বছর একই কর্মস্থলে
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন কর্মকর্তা নির্দিষ্ট সময়ের পর এক কর্মস্থলে থাকার কথা নয়। কিন্তু ভূমি সহকারি কর্মকর্তা (তহশিলদার) আব্দুর রহিমের ক্ষেত্রে এই নিয়ম সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। অদৃশ্য কারণে বছরের পর বছর ধরে তিনি একই অফিসে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের দাবি, ঊর্ধ্বতন মহলের একাংশকে ম্যানেজ করেই তিনি এই দীর্ঘস্থায়ী আসন গেড়েছেন এবং তার এই খুঁটির জোরের কারণেই ঘুষ – দুর্নীতির মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
📱 আত্মপক্ষ সমর্থনে অস্বীকৃতি ও বক্তব্য এড়িয়ে যাওয়া
উত্থাপিত এসব গুরুতর অভিযোগ এবং বিপুল সম্পদের বিষয়ে তহশিলদার আব্দুর রহিমের বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তবে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন এবং পরবর্তীতে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করে। তার বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ দুর্নীতি নানান অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে এই বিষয়ে তিনি খুদে বার্তা পাঠাতে বলেন। পরে তার বক্তব্য জানতে খুদে বার্তা পাঠালে তিনি খুঁজে বার্তার জবাবে তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তিনি একাধিক গণমাধ্যম কর্মীদের দিয়ে তিনি এই প্রতিবেদককে ফোন করে নিউজ প্রকাশিত করা থেকে বিরত থাকার জন্য বলেন। এর সাথে তার অবৈধ সম্পদের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
ভুক্তভোগী জনগণের দাবি,
বাউনিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এই সীমাহীন দুর্নীতি বন্ধে এবং ভূমি সহকারী কর্মকর্তা(তহশিলদার ) আব্দুর রহিমের অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিভিন্ন মহল ও ভুক্তভোগী ভূমি সেবা প্রত্যাশীরা ।





© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত